আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানে পৌঁছে গেল মার্কিন প্রতিনিধি দল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ তারা পৌঁছেছে। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি সামরিক ও সরকারি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামিকাল মঙ্গলবার। তার আগে সোমবারেই দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। তবে এই বৈঠক আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এখনও ইরানের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনও ইতিবাচক মন্তব্য করেননি। 

 

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে তিনি রাজি। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এদিন ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। 

 

আদৌ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে? আশঙ্কা উড়িয়ে ট্রাম্প এদিন জানিয়েছেন, "আমাদের মধ্যে আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আর কেউ কোনো খেলা খেলবেন না।" ট্রাম্প এও জানিয়েছেন, "আমার আলোচনায় বসতে কোনও আপত্তি নেই। তারা যদি দেখা করতে চান, আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি রয়েছেন।" 

 

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার 'শান্তি আলোচনা' প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি' বা 'ইরনা' এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, "ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে যেসব খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।" 

 

মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আর কয়েক ঘণ্টায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সেই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলকে পাকিস্তানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। 

 

'ইরনা'-র খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, "মার্কিনিদের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া, অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থানে ঘনঘন পরিবর্তন, ধারাবাহিক স্ববিরোধিতা এবং তথাকথিত নৌ-অবরোধ (যা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বোঝাপড়ার লঙ্ঘন) এর পাশাপাশি হুমকি-ধমকিপূর্ণ হুঙ্কার এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।" সেখানে আরওলেকা হয়েছে যে, "এমন পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।" 

 

তেহরান, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে 'দোষারোপের খেলা'য় মেতে ওঠার এবং ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও এনেছে।