আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়াতে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান নাকি বড় ছাড় দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “আগেভাগে সব বলতে চাই না, তবে তারা সম্মত হয়েছে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।” যদিও এই দাবি তিনি আগেও একাধিকবার করেছেন, কিন্তু এবার তিনি আরও জোর দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন।
শুধু তাই নয়, ট্রাম্প আরও জানান যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপহার” দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই উপহারটি সম্ভবত জ্বালানি বা তেল-গ্যাস সম্পর্কিত এবং এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে।
গত কয়েক মাসে ইরান, ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং বাজারে অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালীটি খোলা ও নিরাপদ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটনের জন্য।
ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে, এবং সেটি আজ পৌঁছেছে। এটি ছিল খুব বড় একটি উপহার, যার মূল্য বিপুল। এটি পারমাণবিক নয়, বরং তেল ও গ্যাস সম্পর্কিত।” তবে তিনি এই ‘উপহার’-এর নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে কার্যত জয়ী হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছি, যা মধ্য এশিয়াতে আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারত।” তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, নেতৃত্ব এবং রাডার ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে—এবং এই সামরিক অভিযান ছিল “অসাধারণ সাফল্য”।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, হেগসেথ নাকি এত দ্রুত সংঘাতের সমাপ্তি চাননি। যদিও ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির কথা বলছেন, তবুও ইরান সরকার এই দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসেনি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল এবং অনিশ্চিত। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে রয়েছে—এই সংঘাত কি সত্যিই শান্তির পথে এগোবে, নাকি আরও বড় সঙ্কটের দিকে গড়াবে।
