আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক মাস হয়ে গেল যুদ্ধ শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। গত মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, এই বৈঠকে কোনও প্রোটোকল না মেনে আচমকা যোগ দেন বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক।  যা নিয়েই বিতর্ক দানা বাঁধে। শনিবার নয়াদিল্লির তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুই নেতার কথোপকথনের সময় তৃতীয় কোনও ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কথা হল। বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা প্রতিবেদনটি দেখেছি। ২৪ মার্চের টেলিফোন কথোপকথনটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হয়েছিল।” ওই মুখপাত্র আরও বলেন, “যেমনটা আগেই জানানো হয়েছিল। এই ফোনালাপ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দিয়েছিল।”

গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প ফোন করেছিলেন মোদিকে। সমাজমাধ্যমে সেই কথা জানান খোদ প্রধানমন্ত্রীই। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই তাঁদের প্রথম কথোপকথন। মোদি জানান, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ফোনে তিনি এবং ট্রাম্প পরস্পর মত বিনিময় করেছেন। মোদি এই কথোপকথনকে একটি ‘ফলপ্রসূ মতবিনিময়’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং উত্তেজনা প্রশমন ও দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

এই ফোনালাপের পরেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি কর হয়, “মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেন ইলন মাস্ক। যুদ্ধকালীন সঙ্কটের মুহূর্তে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনায় একজন সাধারণ নাগরিকের এমন উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক।” 

সরকারি পর্যায়ে কোনও আনুষ্ঠানিক পদ না থাকা সত্ত্বেও মাস্কের এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ভাল ভাবে নেননি অনেকেই। এই ফোনালাপের বিষয়ে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবরণীতে হোয়াইট হাউস কিংবা ভারত কেউই মাস্কের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও মাস্ক কোনও সাড়া দেননি।