আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভ্যন্তরীণ চরম অসন্তোষ, তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাঝে দাঁড়িয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দাবি তুললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সার্বিক উন্নয়ন তিনি তদারকি করতে চান—এই অজুহাতে অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের এই সুপ্রিমো।
সম্প্রতি পিওকে-র রাজধানী মুজফফরাবাদে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নওয়াজ শরিফ বলেন, "পাঞ্জাব প্রদেশের মতোই কাশ্মীরও আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ি, কারণ আমার পূর্বপুরুষরা কাশ্মীর থেকেই অভিবাসিত হয়েছিলেন। যদি আমাদের দল এই নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে আমি ভাই তথা প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে অনুরোধ করব আমাকে কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করতে, যাতে আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি।"
উত্তপ্ত পিওকে: জনতার ক্ষোভ ও নির্বাচন
আগামী ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে তথাকথিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন জোটসঙ্গী পাকিস্তান পিপলস পার্টির মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে নওয়াজের দল। তবে নির্বাচনের ঠিক মুখেই তীব্র গণবিক্ষোভে উত্তাল গোটা অঞ্চল।
অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি, আকাশছোঁয়া বিদ্যুতের বিল এবং ইসলামাবাদ প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট অ্যাওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’।
ভারতের কড়া অবস্থান ও বার্তা
পাকিস্তান যখন পিওকে-তে নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর নাটক সাজাচ্ছে, তখন ভারতের অবস্থান বরাবরের মতোই অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়।
নয়াদিল্লি বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ। পাকিস্তান এই অঞ্চল বেআইনি ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। ভারত পিওকে আয়োজিত কোনও তথাকথিত নির্বাচন বা স্থানীয় আইনসভাকে কোনও ধরনের স্বীকৃতি দেয় না এবং এই বিষয়ে বহুবার ইসলামাবাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে স্থানীয় মানুষের তীব্র বিরোধিতা আর অন্যদিকে ভারতের কড়া অবস্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে নওয়াজ শরিফের এই ‘পিএম’ হওয়ার বাসনা প্রকৃতপক্ষে পিওকে-র উত্তাল পরিস্থিতি এবং নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরানোর একটি মরিয়া চেষ্টা মাত্র।
















