আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশান্ত মধ্য এশিয়া। ইরানে, ইজরায়েল-মার্কিন হানার জের এখনও অব্যাহত। প্রত্যাঘাতে মরিয়া তেহরান। দুনিয়াজুড়ে গুঞ্জন যে, ইজরায়েলের উস্কানিতেই ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। তবে, এই অভিযোগ নস্যাৎ করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যেসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ মাথাচাড়া দিয়েছে, সেগুলোকে নেতানিয়াহু “ভুয়ো খবর” বলে অবিহিত করেছেন।

কী বলেছেন নেতানিয়াহু?

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী  বলেন, “এই যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে (ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) টেনে এনেছি- এটা কেবল একটি অপপ্রচারই নয়, বরং হাস্যকর। কেউ কি সত্যিই মনে করে যে, অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পকে নির্দেশ দিতে পারে যে তাঁকে কী করতে হবে? এও কি সম্ভব?” তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প “সর্বদাই সেই সিদ্ধান্তগুলো নেন, যা তিনি আমেরিকার জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করেন।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার “ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের” প্রশংসাও করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “আমরা বিদ্যুৎগতিতে আমাদের লক্ষ্যগুলো অর্জন করছি।”

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের টানা ২০ দিনের বিমান হামলার পর ইরানের এখন আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কোনও ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই। একটি সাংবাদিক বৈঠকে নেতানিয়াহুতিনি বলেন, “যুদ্ধে আমরা জয়ী হচ্ছি, আর ইরান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে।” তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। বেঞ্জামিন নিতানিয়াহু বলেন, “আমরা এখন যেসব ঘাঁটি ধ্বংস করছি, সেগুলো মূলত সেই কারখানা—যেখানে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এবং তারা যেসব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, সেগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বা উপাদান তৈরি করা হয়।”

তবে, ইরানের যে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনও ক্ষমতা নেই, নিজের সেই দাবির সপক্ষে নেতানিয়াহু কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি।

নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান এখন “যেকোনও সময়ের চেয়ে দুর্বল”, অন্যদিকে ইজরায়েল একটি আঞ্চলিক শক্তি—এবং “কেউ কেউ তো একে বিশ্বশক্তি হিসেবেও অভিহিত করবেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তেহরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান “যতদিন প্রয়োজন, ততদিনই অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, নেতানিয়াহু যখন সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ইরান নতুন করে এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের দেশের দিকে লক্ষ্য করে নতুন করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও জানান যে, ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর বিষয়টি ইজরায়েল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই করেছে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইজরায়েল ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস ঘাঁটিতে ভবিষ্যতে আর কোনও হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের অনুরোধ করেছেন যেন আমরা ভবিষ্যতে আর কোনও হামলা না চালাই। আমরা তাঁর অনুরোধ মেনে হামলা থেকে বিরত থাকছি।”

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হুঙ্কারের সুরে বলেন, “ইরানের সেই ‘মৃত্যু-পূজারি গোষ্ঠী’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ- হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের এই অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।”