আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সাধারণ মানুষের ওপর পাক বাহিনীর নির্মম অত্যাচার চলছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান লাগাতার 'ভুয়ো খবর' ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়াচ্ছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এভাবেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক, খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।

 

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পুঞ্চ সেক্টরের রাওলাকোটে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের উপর পাক পুলিশের রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের কথাও তোলেন। রণধীর বলেন, "পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা দেখছি যে, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে একগুচ্ছ ভুয়ো খবর এবং ভিডিও ছড়াচ্ছে। নিজেদের চরম ব্যর্থতা ঢাকার এবং পিওকে-তে হওয়া নারকীয় মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে পাকিস্তান।"

 

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র পিওকে-তে সাধারণ নাগরিকদের ওপর পাক পুলিশের নির্মম অত্যাচারের কথা উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে একাধিক আন্দোলনকারী নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জয়সওয়াল বলেন, "আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের এই কুকীর্তি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করবে এবং পাকিস্তানকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে।"

 

উল্লেখ্য, মূলত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পাক আদালত। তার প্রতিবাদেই 'জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' এই আন্দোলনের ডাক দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলি অপব্যবহার করে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের রাজনৈতিক দলগুলি এই অঞ্চলের সরকার গঠনে অন্যায্য প্রভাব খাটায়। এর পাশাপাশি লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, আকাশছোঁয়া বিদ্যুতের বিল এবং ময়দা-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সংকটের কারণেও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।

 

সেই সূত্রেই পুঞ্চের রাওলাকোটে 'জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি'-র তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এরপরই পাক আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। এর পর পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সরকারি খাতায় নিহতের সংখ্যা ১১ হলেও স্থানীয় সূত্র এবং সমাজমাধ্যমের ভিডিয়ো থেকে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাক বাহিনীর দাবি, আন্দোলনকারীরা গোরিলা কায়দায় পেট্রল বোমা ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোয় তাঁরা এই দমননীতি নিতে বাধ্য হয়েছে।

 

পাক প্রশাসনের তরফে অশান্তি রুখতে মিরপুর, মুজফফরাবাদ, গিলগিট-বাল্টিস্তান, দাদিয়াল, রাওলাকোট, সুধনতি ও তত্তা-পানি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তথ্য আদান-প্রদান আটকে রেখেও অবশ্য বিক্ষোভ দমন করা যায়নি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনকারীদের উপর সরকারি দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও।

 

পাক সরকার ইতিমধ্যেই এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আন্দোলন চলছে। ফলে গোটা কাশ্মীর জুড়েই চরম উত্তেজনা রয়েছে।