আজকাল ওয়েবডেস্ক: পথের কাঁটা স্বামী। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড যোগীরাজ্যে। স্বামীকে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গত ৮ জানুয়ারি খুর্জা নগর এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পোস্টমর্টেমের পর জানা যায়, দেহটি ৩৮ বছরের এক যুবকের। তাঁর নাম, নীরজ। পুরনো দিল্লির নিউ অশোক নগরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত যুবকের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে খুর্জা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর নীরজের স্ত্রী দিব্যা ও তাঁর প্রেমিক পিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশি জেরায় দিব্যা জানিয়েছেন, নীরজ নিত্যদিন মদ্যপান করে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন তাঁকে।
দিব্যা আরও জানিয়েছেন, গত ১০ থেকে ১২ বছর আগে পিন্টুর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয়েছিল তাঁর। ক্রমেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুলান্দশহরের পুলিশ আধিকারিক শঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, দিব্যা ও পিন্টু বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণেই পরিকল্পনামাফিক নীরজকে খুন করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দু'জনে মিলে নীরজকে মদ্যপান করিয়ে অজ্ঞান করেন। এরপর গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে, শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করেন। মাথায় ইটের আঘাত করে থেঁতলেও দেন। খুনে ব্যবহৃত জিনিসগুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
গত নভেম্বর এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পিসি ও ভাইপোর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল এক প্রৌঢ়ের। দু'জনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন তিনি। এর জেরেই নিত্যদিন অশান্তি হত। পথের কাঁটা স্বামীকে চিরতরে সরাতে পিসি ও ভাইপো মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন। অবশেষে নৃশংসভাবে খুন করেন তাঁকে। দেহ দশ মাস ধরে লুকিয়ে রাখার পরেও শেষরক্ষা হয়নি।
দশ মাস পর বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হয় ওই ব্যক্তির কঙ্কাল। দশ মাস আগে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করার পর ব্যক্তির দেহ বাড়ির পিছনের জমিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে খুনের অভিযোগে রবিবার স্ত্রী ও প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পাশাপাশি ঘাতক স্ত্রী ও তার ভাইপোর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও ফাঁস করেছিল পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। পুলিশি জেরায় লক্ষ্মী কয়েক মাস ধরেই জানিয়েছিলেন, দশ মাস আগে কাজের সূত্রে গুজরাটে গিয়েছিলেন শিববীর সিং (৫০)। তারপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি। তাঁর মা সাবিত্রী দেবী বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তখন থেকেই ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি সাবিত্রী দেবী। ফোনটি বন্ধ ছিল। ছেলের তরফে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা।
এরপর সাবিত্রী দেবীর সন্দেহ গাঢ় হতে থাকে। দীর্ঘ কয়েক মাস পর গত ১৯ আগস্ট থানায় শিববীরের নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন তিনি। এরপর লক্ষ্মী ও তার ভাইপো অমিত সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরায় দুজনেই স্বীকার করেন, তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। দু'জনে মিলেই শিববীরকে খুন করেন। শনিবার লক্ষ্মী ও অমিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, গত দশ মাস ধরেই খুনের ঘটনাটি লুকানোর জন্য নানা ফন্দি করেছিলেন দুই অভিযুক্ত। বিষয়টি চেপে রাখার জন্য নানা গল্প ফেঁদেছিলেন। অবশেষে টানা জেরায় দু'জনেই ভেঙে পড়েন। এবং একসঙ্গে খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেন। জানা গেছে, মাদক মেশানো চা খাইয়ে শিববীরকে অজ্ঞান করেছিলেন স্ত্রী লক্ষ্মী। এরপর কুড়ুল দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করেন অমিত।
শিববীরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে এরপর ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন লক্ষ্মী। খুনের পর দেহ বাড়ির পিছনে জমিতে পুঁতে দিয়েছিলেন তাঁরা। দশ মাস পর সেই মাটি খুঁড়ে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। কঙ্কালের পাশাপাশি একটি লকেট পাওয়া গেছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এই লকেটটি শিববীরের।
