আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হঠাৎ করেই ভেস্তে যায়। বিয়ের সমস্ত আচার সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বরকে বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত কনেকে না নিয়েই বরযাত্রা গ্রামে ফিরে যায়, ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে ২২ বছর বয়সী ঋষুর বিয়ে ঠিক হয়। ঋষু গনাই গ্রামের বাসিন্দা। ১৩ ফেব্রুয়ারি ধুমধাম করে বরযাত্রা পৌঁছয় কনের বাড়িতে। নাচ-গান ও প্রচলিত রীতিনীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। রাতের খাবার শেষে অতিথিরা বিশ্রামে যান।

ভোর প্রায় চারটে নাগাদ কনের ‘বিদায়’-এর প্রস্তুতি চলাকালীন করিপুর এলাকা থেকে একদল কিন্নর সেখানে পৌঁছন ‘নেগ’ (উপহার) সংগ্রহের জন্য—যা উত্তর ভারতের বিয়েবাড়িতে প্রচলিত প্রথা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আগত দলের কয়েকজন নাকি বরকে চিনে ফেলেন এবং অভিযোগ করেন যে তিনি আগে তাঁদের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

&t=2s

অভিযোগ, বিষয়টি চেপে রাখতে বরপক্ষ ওই দলকে ২৩ হাজার টাকা দেয় এবং প্রকাশ্যে কিছু না বলার অনুরোধ করে। কনের পরিবারের তরফে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হলে বর ঘরে ঢুকে যাচাই করতে অস্বীকার করেন এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর কিন্নর দলের সদস্যরা কনের পরিবারকে তাঁদের অভিযোগের কথা জানান।

ক্ষুব্ধ কনের আত্মীয়রা বরকে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। যদিও সামাজিক সংবেদনশীলতার কারণে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার পর বরপক্ষ নাকি বিয়ের খরচ ফেরত দিতে রাজি হয়। এরপর কনেকে না নিয়েই বরযাত্রা ফিরে যায়।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় সাজানো বিয়েতে স্বচ্ছতা এবং গ্রামীণ সমাজে লিঙ্গ পরিচয় ঘিরে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হিরা মান্ডি, ফিরোজপুরে  বিয়েবাড়িতে ‘বাধাই’ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছিল।