মৃত্যুর পর মানুষের শরীর ও মনে ঠিক কী ঘটে? এই প্রশ্ন মানবসভ্যতার শুরু থেকেই কৌতূহলের বিষয়। ধর্ম, দর্শন ও বিশ্বাসের বাইরে বিজ্ঞানও এই রহস্যের দিকে নতুন করে আলো ফেলেছে।
2
9
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, মৃত্যু মানেই হয়তো সঙ্গে সঙ্গে সব অনুভূতি বা সচেতনতার শেষ নয়। বরং মৃত্যুর পরেও কিছু সময় পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকতে পারে।
3
9
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ড. স্যাম পার্নিয়া। তিনি ও তাঁর গবেষক দল এমন রোগীদের উপর কাজ করেন, যাঁদের হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, অর্থাৎ যাদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। সাধারণভাবে আমরা জানি, হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার্ট থেমে গেলেও মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না।
4
9
গবেষণার সময় কিছু রোগীর মাথায় বিশেষ যন্ত্র লাগানো ছিল, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ রেকর্ড করে। আশ্চর্যের বিষয়, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার পরেও কয়েক মিনিট থেকে কিছু ক্ষেত্রে আধ ঘণ্টা পর্যন্ত মস্তিষ্কে এমন তরঙ্গ দেখা গেছে, যা সচেতনতা, স্মৃতি ও চিন্তার সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ শরীর নিস্তেজ হলেও মস্তিষ্ক তখনও 'কাজ' করতে পারে।
5
9
আরও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে। যারা পরে বেঁচে ফিরে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, হার্ট বন্ধ থাকার সময় তাঁরা চারপাশের কথা শুনতে পেয়েছেন, চিকিৎসকের কথা বা যন্ত্রের শব্দ মনে আছে।
6
9
কেউ কেউ বলেছেন, মনে হচ্ছিল তারা নিজের শরীরের বাইরে থেকে সবকিছু দেখছেন। আবার কারও অনুভূতি ছিল গভীর শান্তির, ভয় নয় বরং এক ধরনের নির্ভার অনুভব।
7
9
এই ধরনের অভিজ্ঞতাকে বলা হয় নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স অর্থাৎ মৃত্যুর খুব কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি অলৌকিক কিছু নাও হতে পারে। মৃত্যুর সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে গেলে বা কিছু রাসায়নিক নিঃসৃত হলে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এটা ঘটে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
8
9
এই গবেষণা মৃত্যুকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। এতদিন মনে করা হত, হৃদযন্ত্র থামা মানেই সব শেষ। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, মৃত্যু একটি ধাপে ধাপে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়া হতে পারে। মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়, আর সেই সময়েই মানুষ কিছু অনুভব করতে পারে।
9
9
মৃত্যু নিয়ে বিজ্ঞানের এই নতুন তথ্য শুধু চমকপ্রদ নয়, মানুষের জীবন, চেতনা ও শেষ মুহূর্তের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা হলে, হয়তো মৃত্যুর এই রহস্যময় সময়টা আরও ভালভাবে সামনে আসবে।