আজকাল ওয়েবডেস্ক: জোর করে কাজ করিয়ে তৈরি জিনিসপত্রের আমদানি রুখতে পারেনি ভারত-সহ ৬০টি দেশ। আর সেই অপরাধেই এবার এই দেশগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা।
মার্কিন বাণিজ্য নিয়ামক সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’-এর দাবি, ভারতের মতো দেশগুলি এই ধরনের বেআইনি আমদানি বন্ধ করতে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের বিশেষ ধারা (সেকশন ৩০১) মেনে এই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আমেরিকার অভিযোগ, এই দেশগুলির 'ঢিলেঢালা' নীতির কারণে মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
আমেরিকার তৈরি এই ‘কাল তালিকা’য় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে ব্রিটেন, চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিও। মার্কিন বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের প্রধান বাণিজ্যিক বন্ধুদের এই উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বিশ্ব বাজারে মার খাচ্ছেন।"
এই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই দেশগুলি থেকে আসা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানিকৃত শুল্ক বা ট্যাক্স বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। যে দেশগুলি ইতিমধ্যেই এই ধরনের বেআইনি শ্রমের পণ্য রোখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিদের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপতে পারে। এদিকে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের জন্য আলাদা করের নিয়মও ভাবা হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে বহু বিশেষজ্ঞের মতামত ও সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কিছু দেশের এই গাফিলতির জন্য কম খরচে জিনিস তৈরি হয়ে বাজারে চলে আসছে। ফলে যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে, তারা মার খাচ্ছে।
আমেরিকার এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের কথাবার্তা চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাল্টা শুল্ক নীতি’ নিয়ে এমনিতেই দু’দেশের মধ্যে চাপানউতোর চলছিল। তার ওপর এই নতুন ধাক্কা দিল্লির উদ্বেগ বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মোদি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও অর্থনীতিকে বাঁচিয়েই আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতায় যাবে তারা।
খুঁটিনাটি বিবাদ থাকলেও আমেরিকা এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দু’দেশের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। আপাতত আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত এই শুল্কের প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলের মতামত শুনবে মার্কিন প্রশাসন। এই তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত সিলমোহর দিলেই এই নয়া নিয়ম কার্যকর হবে।















