নিতাই দে, আগরতলা: উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন ত্রিপুরার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলটিতে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিব রাবেল হেমেন্দ্রকুমার, উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা, সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকেরা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে প্রতিনিধিদল রাজ্যের সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলি মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানায়। তাদের মতে, এই সমস্যার সমাধান হলে উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং রাজ্যের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করবে। এছাড়াও, রাজ্য উচ্চশিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রকের একজন প্রতিনিধিকে মনোনীত করার অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে, আইআইটি খড়্গপুরের সহযোগিতায় সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে স্কিল ও ভোকেশনাল কোর্স চালু ও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টিও উত্থাপন করেন ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তিনি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশ্বাস দেন যে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন হবে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ত্রিপুরায় নবগঠিত দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি নতুন সাধারণ ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তাও চান। এই সহায়তা রাজ্যের শিক্ষাগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করতে একটি মানব উন্নয়ন মানচিত্র (হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ম্যাপ) তৈরির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন কোর্স চালু করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার (GER) ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রিপুরাকে একটি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এই কমিটি ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোর্স, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ ও ভিশন ডকুমেন্ট প্রস্তুত করবে।
এছাড়াও, জনজাতি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ত্রিপুরার যুবসমাজের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে এই বৈঠকে বলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী অফিস থেকে জানানো হয়েছে ।















