আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন চালানো অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (CJP) বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি টাকা ঢোকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কোনও  বিদেশি তহবিল যুক্ত রয়েছে কি না—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, এই বিষয়ে তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কোনও  তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, বিজেপির লোকসভা সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং দলটির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য অভিযোগ তুলেছিলেন যে যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের পেছনে "ভারতবিরোধী শক্তির" হাত রয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকারীদের 'দেহেসাতগর্দ' বা উগ্রপন্থী বলে কটাক্ষ করেছিলেন। শাসকদলের এমন অভিযোগের আবহে বিদেশ মন্ত্রকের এই স্পষ্ট জবাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত ২০ জুন থেকে নিট পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিই হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সিজেপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সিজেপি নেতারা জানান, কেন্দ্র তাদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে দুটি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আরও একদিন সময় চেয়ে নিয়েছে।

বৈঠক শেষে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, তারা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ছাড়া অন্য কোনও  কিছুতেই তারা আপস করবেন না। অন্যদিকে মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি শুনেছে সরকার এবং পরবর্তী বৈঠকে সেগুলির জবাব দেওয়া হবে। শনিবার বিকেলে আবারও দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসতে চলেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংসদ অভিযানের চেষ্টা করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়, যার পর থেকে যন্তর মন্তর চত্বরে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে এই আন্দোলনের উত্তাপ এখন কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।