আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে আস্ত একটি মন্দির উৎসর্গ করতে চলেছেন বিহারের রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়। সমাজে নিজেদের উপযুক্ত সম্মান এবং আইনি অধিকার এনে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই এই অভিনব উদ্যোগ। বিহার সরকারের সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনে গঠিত 'বিহার রাজ্য ট্রান্সজেন্ডার ওয়েলফেয়ার বোর্ড'-এর প্রথম বৈঠকে সম্প্রতি এই প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে।
বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সিং জানান, বিহারে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের নিজস্ব কোনো নিবেদিত মন্দির নেই। তাই সম্প্রদায়ের সব সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, যিনি তাদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন, সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হবে। মূলত ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গত বছর আগস্টে এই বোর্ড গঠন করে বিহার সরকার। ২০১৯ সালে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন পাস হওয়ার পর সচিবালয়ে এই সম্প্রদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যার পর এটাই ছিল বোর্ডের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
তবে বিহারে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাজ্যে তাদের সংখ্যা ছিল ৪০,৮২৭। অথচ ২০২২ সালের রাজ্যভিত্তিক জাতিভিত্তিক গণনায় সেই সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮২৫-এ, যা বিহারের মোট জনসংখ্যার ০.০০০৬ শতাংশ মাত্র। সম্প্রদায় এই তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানায়, একটা বিরাট অংশের মানুষকে এখনও তালিকাভুক্তই করা হয়নি। অনানুষ্ঠানিক হিসেবে রাজ্যে তাদের আসল সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষের কাছাকাছি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। আইনি নির্দেশের পর বিহার পুলিশে ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং কয়েকজন সাব-ইনস্পেক্টর পদে যোগ দিয়ে সংবাদ শিরোনামে আসেন। রাজনীতি থেকে সামাজিক উদ্যোগ—সবক্ষেত্রেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ২০২৫ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে গোপালগঞ্জের ভোরে আসন থেকে জন সুরজ পার্টির টিকিটে লড়েছিলেন প্রীতি কিন্নর। আবার ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পাটনায় 'সতরঙ্গি দোস্তানা রেস্ট্রো' নামে রাজ্যের প্রথম ট্রান্সজেন্ডারদের পরিচালিত রেস্তোরাঁ চালু করেন রেশমা প্রসাদ ও তাঁর সংস্থা 'দোস্তানা সফর'।
তবুও বাস্তবতার ক্যানভাসটা পুরোপুরি রঙিন নয়। সম্প্রদায়েরই এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিহারের মতো রাজ্যে ট্রান্সজেন্ডারদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম এখনও অত্যন্ত কঠিন। এই উদ্যোগ বা প্রতীকী সম্মান কিছুটা আলো ছড়ালেও, তাঁদের প্রকৃত সামাজিক ক্ষমতায়ন ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সরকার এবং সাধারণ মানুষ—উভয়েরই আরও অনেক বেশি বাস্তবসম্মত সহযোগিতা প্রয়োজন।
















