আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবার সঙ্গে চিপস কিনতে গিয়েছিল তিন বোন। আর বাড়ি ফেরেনি। কয়েক ঘণ্টা পর জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হল তিন বোনের নিথর দেহ। একটানা জিজ্ঞাসাবাদের পর বাবা জানালেন, তিনিই খুন করেছেন তিনি মেয়েকে। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, একটি জলের ট্যাঙ্ক থেকে তিন নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সকালে বাবার সঙ্গেই ঘুরতে বেরিয়েছিল ওই তিন নাবালিকা। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি তারা। এরপর জলের ট্যাঙ্ক থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের অনুমান, তিন নাবালিকা কন্যাসন্তানকে জলের ট্যাঙ্কে চুবিয়ে খুন করেছে তাদের বাবা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিন নাবালিকার বয়স, আট, সাত ও পাঁচ বছর। তিন নাবালিকাই বাবার সঙ্গে বাড়ির অদূরে এক দোকানে চিপস কিনতে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তারা বাড়ি না ফেরায়, খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশের তিনটি দল গঠন করে শুরু নাবালিকাদের খোঁজ।
আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর ওই জলের ট্যাঙ্কে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে তারা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, তিন নাবালিকা সন্তানকে একসঙ্গে ধাক্কা দিয়ে জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিলেন বাবা। ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, মৃত নাবালিকাদের বাবা পেশায় অটো চালক ছিলেন। পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তানের খরচ সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছিলেন। আর্থিক অনটনে ও ঋণ শোধ করতে না পারায় তিন নাবালিকা কন্যাসন্তানকে একসঙ্গে খুন করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃতদেহ। এক দম্পতি ও তাদের তিন খুদে সন্তানের নিথর দেহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। দিল্লির সেই বুরারিকাণ্ডের ছায়া খাস নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের আহমেদাবাদের বাগোদারায়। পুলিশ জানিয়েছিল, মৃতেরা হলেন বিপুল ভাগেলা ও সোনাল ভাগেলা এবং তাঁদের ১১ ও পাঁচ বছরের দুই কন্যাসন্তান ও আট বছরের এক পুত্রসন্তান। রবিবার সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
এদিন সকালে প্রতিবেশীরাই পুলিশে প্রথম খবর দেন। ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী, অ্যাম্বুল্যান্স। দুটি ঘর থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পাঁচজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তানকে খুন করে দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছিল।
এদিকে মৃত দম্পতির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা আদতে ঢোলকার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাগোদারায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিপুল পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। পরিবারে তিনি একাই উপার্জন করতেন। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর্থিক অনটনের কারণেই হয়তো চরম পদক্ষেপ করেছেন।
পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিপুল ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেটির ধাঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। একদিকে সংসারের চাপ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা। সবমিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তিন সন্তানকে বড় করে তোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ঋণের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান পরিবারের।
