আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমকে বলা হয় “ভারতের চিরসবুজ শহর” । এই নাম শুধু একটি উপাধি নয়, বরং শহরটির প্রকৃতি, জলবায়ু, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার এক অনন্য পরিচয় বহন করে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও আরব সাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই শহর প্রকৃতির সবুজে মোড়া সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত।


তিরুবনন্তপুরমের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল এর ঘন সবুজ পরিবেশ। শহরের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায় নারকেল গাছ, রাবার বাগান, বিভিন্ন ধরনের উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ ও ঘন বনাঞ্চল। আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেও এখানে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক সুন্দর উদাহরণ দেখা যায়। বড় বড় রাস্তা, সরকারি ভবন কিংবা আবাসিক এলাকাগুলিতেও গাছপালার আধিক্য শহরটিকে সারাবছর সবুজ রাখে।


এই শহরের আবহাওয়াও “চিরসবুজ” নামের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। তিরুবনন্তপুরমে সারা বছরই তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু থাকে, সঙ্গে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। বর্ষার সময়ে শহরটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, নদী-খাল ভরে ওঠে, আর চারপাশের সবুজ রঙ যেন আরও গভীর হয়ে যায়। এই নিয়মিত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়াই এখানকার সবুজ প্রকৃতিকে সারা বছর সতেজ রাখে।
তিরুবনন্তপুরম শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পরিবেশ সচেতনতার জন্যও পরিচিত। কেরল বরাবরই পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে, আর রাজধানী শহর হিসেবে তিরুবনন্তপুরম সেই দৃষ্টান্তকে আরও জোরদার করেছে। এখানে বহু পার্ক, উদ্যান ও সংরক্ষিত সবুজ এলাকা রয়েছে, যা শহরের বাসিন্দাদের সুস্থ জীবনযাত্রায় সাহায্য করে। নেপিয়ার মিউজিয়াম চত্বর, কানোকারা পার্ক বা শহরের বিভিন্ন লেক ও জলাভূমি তার উদাহরণ।


শহরের উপকূলবর্তী অবস্থানও এর চিরসবুজ পরিচয়ে ভূমিকা রেখেছে। কাছাকাছি কোভালাম, ভারকালার মতো সৈকত এলাকা শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করে না, বরং সমুদ্রের প্রভাব শহরের জলবায়ুকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। পাহাড়, বন, সমুদ্র—এই তিনের মেলবন্ধন তিরুবনন্তপুরমকে এক অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দিয়েছে।


সংস্কৃতি ও জীবনধারার দিক থেকেও তিরুবনন্তপুরম শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র, আইটি হাব যেমন আছে, তেমনই আছে প্রাচীন মন্দির, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও সংগীতের চর্চা। এই ধীরস্থির ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা শহরটিকে অতিরিক্ত কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হতে দেয়নি।


সব মিলিয়ে, তিরুবনন্তপুরমের “চিরসবুজ শহর” নামটি এসেছে তার প্রকৃতি, আবহাওয়া, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার সম্মিলিত প্রভাব থেকে। সবুজে ঘেরা, শান্ত ও প্রাণবন্ত এই শহর তাই আজও ভারতের অন্যতম সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরীর মধ্যে গণ্য হয়।