আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বিদেশে ভারতের উন্নয়ন সহায়তা নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশে ভারতের আর্থিক সহায়তা অর্ধেকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনার অভিযোগ এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতের সহায়তা বরাদ্দ ১২০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ভারতের বিদেশি সহায়তার তালিকায় এটা অন্যতম বড় কাটছাঁট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অর্থবর্ষে বাংলাদেশে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সম্পর্কের অবনতির কারণে প্রকৃত খরচ হয়েছে মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ভুটান এখনও ভারতের সর্বাধিক বিদেশি সহায়তা প্রাপ্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। ভুটানের পরে রয়েছে নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। ‘এইড টু কান্ট্রিজ’ শিরোনামে সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫,৬৮৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা গত বছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
চলতি বাজেটের আরেকটি বড় পরিবর্তন হল ইরানের চাবাহার বন্দরের প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ না রাখা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে ভারত ব্যয় করেছিল ৪০০ কোটি টাকা।
২০২৫-২৬ সালের বাজেট অনুমানে প্রথমে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও পরে সংশোধিত অনুমানে তা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল। তবে ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে চাবাহার প্রকল্পের জন্য একটাকাও বরাদ্দ করা হয়নি।
২০২৪ সালে ভারত ইরানের সঙ্গে চাবাহারের শহীদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ১০ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগ শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চাবাহারে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পর ভারতের ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এর ফলে চাবাহার প্রকল্পে ভারতের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিদেশি সহায়তার বরাদ্দে ভুটান এখনও শীর্ষে রয়েছে।
দেশটির জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ২,২৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। জলবিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো প্রকল্পে ধারাবাহিক সহায়তার প্রতিফলন হিসেবেই এই বৃদ্ধি দেখা হচ্ছে।
নেপালের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
মালদ্বীপের ক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রায় ৮ শতাংশ কমিয়ে ৫৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে, অন্যদিকে মরিশাসের বরাদ্দ ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে ১৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। তবে মায়ানমারের ক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রায় ১৪ শতাংশ কমিয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া আফ্রিকার দেশগুলির জন্য সহায়তা ২২৫ কোটি টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। লাতিন আমেরিকার জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণ হয়ে ১২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ইউরেশীয় অঞ্চলের দেশগুলির জন্য সহায়তা সামান্য কমিয়ে ৩৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।
