আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন নিজেই। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পুলিশের কড়া জেরায় নিজের বয়ানের জালেই জড়িয়ে পড়লেন কর্ণাটকের কোট্টুরু শহরের ২৪ বছর বয়সি এক যুবক। মা, বাবা এবং বোনকে খুনের অভিযোগে পুলিশ লক্ষ্য নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই হুলুস্থুল চারিদিকে। 

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৯ জানুয়ারি বেঙ্গালুরুর তিলক নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা-মা এবং বোনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তদন্তে নামতেই বুঝতে পারেন পুলিশ আধিকারিকরা যে, ওই যুবকের কথায় পদে পদে অসঙ্গতি।

এর পরেই সন্দেহের তির ঘোরে লক্ষ্যের দিকে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন লক্ষ্য নিজেই। ইতিমধ্যেই মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের তিন সদস্যকে কেন খুন হতে হল, তার কারণ খুঁজছে পুলিশ।

অন্যদিকে, রাজ্যে খুনের আরও একটি ঘটনা ঘটেছে মাণ্ড্য জেলায়। সেখানে ৩৫ বছরের যুবক যোগেশকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই দুই খুড়তুতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, একটি গোয়ালঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন যোগেশ। সেই সময় ভরত ও দর্শন নামের দুই ভাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হামলা। নিহত যোগেশের কয়েক দিন পরেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। খুশির বদলে এখন শোক আর আতঙ্কে ডুবেছে গোটা গ্রাম। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, পরকিয়া সম্পর্কের জেরে এক বধূ ও তাঁর ছয় মাসের সন্তানকে পুড়িয়ে মারল তাঁরই স্বামীর প্রেমিকা।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলার সঙ্গে ওই ব্যক্তির আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ওই ব্যক্তি তাঁকে এড়িয়ে চলছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভ থেকেই শনিবার দুপুরে প্রেমিকের বাড়িতে চড়াও হয় অভিযুক্ত ওই মহিলা। সঙ্গে ছিল পেট্রোল ভর্তি বোতল, লঙ্কার গুঁড়ো ও ধারালো অস্ত্র।

অভিযোগ, বছর আটাশের ওই গৃহবধূর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, আগুনের তাপে চলে আসে কোলের শিশুটিও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত মহিলা বিধবা। ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি বাড়িতে ছিলেন না। তবে এই ঘটনায় তাঁর কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।