আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের সম্পর্কের সমীকরণও দ্রুত পাল্টাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ভারতে ‘সিক্রেট’ বা গোপন ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার এবং বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরকীয়া অপরাধমুক্ত হওয়ার পর থেকে এই ধরনের ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী।
হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে সাড়ে চার কোটিরও বেশি ভারতীয় এই ‘সিক্রেট’ ডেটিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করেছেন বা এগুলো নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। শুধুমাত্র গত এক বছরেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ এই অ্যাপগুলোতে নতুন করে ‘সাইন আপ’ বা নাম নথিভুক্ত করেছেন। এর ফলে ‘টিন্ডার’ বা ‘বাম্বল’-এর মতো মূলধারার ডেটিং অ্যাপগুলোর একচেটিয়া জনপ্রিয়তায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে।
সাধারণ ডেটিং অ্যাপগুলো যেখানে মূলত অবিবাহিতদের সঙ্গী খোঁজার জন্য তৈরি, সেখানে ‘সিক্রেট’ ডেটিং অ্যাপগুলোর লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা। নাম গোপন রেখে সম্পর্ক তৈরি, ওয়ান-নাইট স্ট্যান্ড বা অনীহা ছাড়াই গোপন শারীরিক সম্পর্ক, বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং, সমকামী সম্পর্ক কিংবা বহুগামিতা (থ্রিসাম বা একের বেশি মানুষের সাথে যৌনতা)—এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই অ্যাপগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। ভারতের বাজারে এখন ‘গ্লিডেন’ (Gleeden), ‘থ্রিফান’ (3Fun), ‘বাডু’ (Badoo), ‘মামবা’ (Mamba), ‘গ্রিন্ডার’ (Grindr), ‘কিসমিয়া’ (Kismia), ‘পিওর’ (Pure) এবং ‘নিম্ফ’ (Nymph)-এর মতো অ্যাপগুলো অত্যন্ত সক্রিয়।
ফরাসি বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং অ্যাপ ‘গ্লিডেন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইতিমধ্যেই তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গত দুই বছরে এই অ্যাপে নারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের সিংহভাগই বিবাহিত বা দীর্ঘদিনের কোনও স্থায়ী সম্পর্কে রয়েছেন।
ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতের মেগাসিটিগুলোই এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ‘গ্লিডেন’-এর মোট ব্যবহারকারীর ১৮% বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। এরপরই রয়েছে যথাক্রমে হায়দরাবাদ (১৭%), দিল্লি (১১%), মুম্বই (৯%) এবং পুনে (৭%)। প্রথম সারির (Tier 1) শহরের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারির (Tier 2) শহরগুলোতেও এই প্রবণতা ছড়াচ্ছে।
\
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পার্টনারের অজান্তে বাইরের কারও সাথে মানসিক, শারীরিক বা ভার্চুয়াল সম্পর্কে জড়ানোই হল এক প্রকার বিশ্বাসভঙ্গ বা পরকীয়া। তবে বর্তমান যুগে এই পরকীয়ার সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর হাত ধরে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৪৯ শতাংশ ভারতীয় জীবনে অন্তত একবার নিজের বাস্তব সঙ্গীর চেয়ে কোনো ‘AI Bot’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে যৌন উত্তেজনাপূর্ণ বা মানসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ হলো চরম ‘একাকিত্ব’। মানুষ এখন নিজের মানসিক চাহিদা বা অপূর্ণ ইচ্ছাগুলো সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। কিন্তু সেই অপূর্ণতা ঢাকতে গিয়ে অনেকেই নৈতিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন। আর মানুষের এই একাকিত্ব, আবেগ এবং গোপন আকাঙ্ক্ষাকেই অত্যন্ত চতুরতার সাথে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করেছে এই সিক্রেট ডেটিং অ্যাপগুলো।















