আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯৯৭ সাল। ওড়িশায় তৎকালীন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী জানকী বল্লভ পটনায়কের শাসনকাল। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের অদূরেই রাজপথে জমায়েত হয়েছিল প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী। কারণ ছিল একটাই—প্রশ্নপত্র ফাঁস। সেই ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন এক তরুণ ছাত্রনেতা—ধর্মেন্দ্র প্রধান।


‘নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় শিক্ষার্থী পরিষদের জাতীয় সম্পাদক হিসেবে উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর প্রাক্তন সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠদের মতে, সচিবালয়ের সামনে সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন তিনি, এমনকি তাঁর হাড়ও ভেঙেছিল। ছাত্র রাজনীতিতে এমন একাধিক প্রাণঘাতী আক্রমণের মুখোমুখি হয়েও সংগঠন গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যান তিনি।


পরবর্তীকালে এই ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতাই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বিজেপির শীর্ষ স্তরে পৌঁছে দেয়। পেট্রোলিয়াম থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষা মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওড়িশায় দীর্ঘ ২৪ বছরের বিজেডি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের নেপথ্যে তাঁর বহু বছরের সাংগঠনিক অবদান অনস্বীকার্য।


তবে ইতিহাস বড়ই অদ্ভুত এক বৃত্ত রচনা করেছে। যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল, আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেই সেই একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। সম্প্রতি নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


নতুন দিল্লিতে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস প্রয়োগের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি, যার মধ্যে ২১ বছরের এক তরুণী গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ বিরোধীদের দাবি, নিট বিতর্ক নিয়ে সংসদে আলোচনার আগেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার এই বিষয়ে যেকোনও আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের কিছু লুকোনোর নেই।


একদা রাজপথে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ করা ছাত্রনেতা আজ ব্যবস্থার শীর্ষে বসে কীভাবে এই সঙ্কট সামাল দেন, এখন সেটাই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।