আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই স্থগিত হয়ে গেল মহারাষ্ট্রের শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা টেট। পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল অর্থাৎ ২৮ জুন। কিন্তু তারই মাঝে থানে জেলা থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। এর পরই পুনের 'মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পরিষদ' স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।

 

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, থানে জেলা থেকে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রশ্নগুলি আসল 'টেট' পরীক্ষার প্রশ্ন না কোনও 'মক টেস্ট'-এর প্রশ্নপত্র, তা খতিয়ে দেখছেন সরকারি আধিকারিকরা। প্রশ্ন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, গোপনসূত্রে খবর পেয়ে ২৭ জুন সকালে থানের ভিওয়ান্দিতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে পরীক্ষা পরিষদের আধিকারিকদেরও ডেকে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু প্রশ্নপত্র '২০২৫ সালের টেট' পরীক্ষার জন্য তৈরি করা প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ভিওয়ান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের উৎস ও পরিধি জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে। ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পরীক্ষা পরিষদও সমান্তরালভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

 

পরীক্ষা পরিষদের ডেপুটি কমিশনার প্রিয়া শিন্দে স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। পুনরায় রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে না তাঁদের। প্রিয়া শিন্দে বলেন, "এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের কোনও দোষ নেই। থানে এবং ভিওয়ান্দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসার পরই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই পরীক্ষার নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে। তবে এই ধরনের বড় মাপের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।" একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পরিষদ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার। যদি চূড়ান্ত যাচাইকরণে প্রমাণিত হয় যে উদ্ধার হওয়া প্রশ্নগুলিই আসল পরীক্ষার প্রশ্ন ছিল, তবে শিক্ষা দফতর এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।