আজকাল ওয়েবডেস্ক: চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৭-এ অবস্থিত পঞ্জাব বিজেপি-র সদর দপ্তরে এক ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকায় এই হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মোটর সাইকেলে করে আসা দুই দুষ্কৃতীর মধ্যে একজন চলন্ত অবস্থাতেই একটি হ্যান্ড গ্রেনেডের পিন খুলে সেটি লক্ষ্য করে ছুড়ে দেয়। গ্রেনেডটি অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুটারের কাছে পড়ে সজোরে ফেটে যায়। অভিযুক্ত নিজেই পুরো ঘটনার ভিডিও করছিল বলে জানা গিয়েছে, যেখানে বিস্ফোরণের পর তাকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই চণ্ডীগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ফরেনসিক দল দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলাকারীরা এই গ্রেনেড তৈরিতে গানপাউডার বা বারুদ ব্যবহার করেছিল। বর্তমানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুরো এলাকা সিল করে অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা দেওয়ায় তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
পঞ্জাব বিজেপি সভাপতি সুনীল জাখর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন যে, পঞ্জাবের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ক্রমাগত গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে হোশিয়ারপুরে ডঃ বি আর আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙা—এই প্রতিটি ঘটনাই একই সূত্রে গাঁথা। জাখরের মতে, পঞ্জাবের সীমানা ঘেরা এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এখন চণ্ডীগড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো যত চেষ্টাই করুক না কেন, তারা পঞ্জাবের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।
তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে খালিস্তানি গোষ্ঠীর যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সূত্রের খবর, ২০২৪ সাল থেকে খালিস্তানি সংগঠনগুলো পঞ্জাবের সরকারি পরিকাঠামোসহ বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের ক্রমাগত নিশানা করে আসছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে আমেরিকায় আশ্রিত সন্ত্রাসবাদী হ্যাপি পাসিয়ান একাই প্রায় ২০টি এধরণের হামলার নেপথ্যে ছিল। অতি সম্প্রতি মোহালিতে পাকিস্তান থেকে মদতপুষ্ট হয়ে নাশকতা চালানোর অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। ফলে রবিবারের এই বিস্ফোরণ পঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড় ধরণের ফাটল ধরিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।















