আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২১ জুন নিট-ইউজির পরীক্ষা পুনরায় হতে চলেছে। তার আগেই অ্যাপের ওপর কেন্দ্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল টেলিগ্রাম।
আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে এই অ্যাপের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। তাদের দাবি, পরীক্ষার্থীদের জালিয়াতি এবং ভুয়ো খবরের হাত থেকে বাঁচাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মামলাটি বিচারপতি তেজস কারিয়ার এজলাসে উঠেছে। আজই এর শুনানি হওয়ার কথা।
টেলিগ্রামে চলা প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করার পরেই এই পদক্ষেপ করেছে এনটিএ। অভিযোগ, ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র’ দেওয়ার নাম করে পরীক্ষার্থীদের থেকে ১৪ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করছিল একদল প্রতারক।
এনটিএ জানিয়েছে, পরীক্ষা ও তার পরের দিনগুলো সুরক্ষিত রাখতেই আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিটিং’ সুবিধাটিও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এনটিএ-র আশঙ্কা, প্রতারকেরা পুরোনো মেসেজ বদলে নতুন করে ভুয়ো ‘প্রশ্ন ফাঁসের’ প্রমাণ তৈরি করতে পারে। সেটা আটকাতেই এই ব্যবস্থা।
সাধারণ গ্রাহকদের অসুবিধার কথা মেনে নিয়েও এনটিএ জানিয়েছে, নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সাময়িক কড়াকড়ি জরুরি ছিল। উল্লেখ্য, গত ৩ মে মূল পরীক্ষাটি প্রশ্ন ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল।
অন্য দিকে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় গ্রাহক সমস্যায় পড়বেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দুরভ লিখেছেন, “কিছু মানুষ প্রশ্ন ফাঁস করেছে বলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক পুরো অ্যাপটাই এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিল। এতে আসল অপরাধীরা নয়, শাস্তি পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। এই নিষেধাজ্ঞা কোনও কাজেও আসেনি, প্রশ্ন ফাঁসের কারবার এর মধ্যেই অন্য অ্যাপে চলে গেছে।”
যদিও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন করেছেন এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং। ভিপিএন ব্যবহার করে বিদেশ থেকে চ্যানেল চালানোর যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাইরে থেকে হয়তো চ্যানেল চালানো যাবে, কিন্তু ভারতের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তো আর সেগুলো দেখতে পাবেন না। ফলে গ্রাহক না থাকলে এই জালিয়াতি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে পরীক্ষার্থীদের টাকা ও সময় দুটোই বাঁচবে।”















