আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-র রি-টেস্ট বা পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বড়সড় পদক্ষেপ করল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষা ঘিরে জালিয়াতি এবং ভুয়ো প্রশ্নপত্র ফাঁসের রটনা রুখতে দেশজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ (Telegram)-এর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ বা এনটিএ (NTA)।
কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহারের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ থাকবে। এর পাশাপাশি, ৩০ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিটিং’ বা বার্তা পরিবর্তনের সুবিধাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে পুরোনো কোনও মেসেজ এডিট বা পরিবর্তন করা যাবে না।
এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেলিগ্রামের মেসেজ এডিটিং ফিচারের অপব্যবহার করে কিছু চক্র পরীক্ষার পর ভুয়ো 'প্রশ্নপত্র ফাঁস'-এর প্রমাণ তৈরি করছিল। এই ফিচারের মাধ্যমে পুরোনো বার্তার মূল সময় (Timestamp) অপরিবর্তিত রেখেই পরীক্ষার পর আসল প্রশ্নপত্র সেখানে আপলোড করে দেওয়া হচ্ছিল, যাতে মনে হয় প্রশ্নটি পরীক্ষার আগেই ছড়ানো হয়েছিল। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় “পেপার লিকড নিট”, “রি-নিট ২০২৬”, “প্রাইভেট মাফিয়া”-র মতো নামে একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল খুলে পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছিল বলে এনটিএ জানিয়েছে। এই চক্রগুলোকে রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং বহু ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেল ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। তবে চ্যানেল ধরে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে প্ল্যাটফর্ম স্তরেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা বেশি কার্যকর বলে মনে করেছে প্রশাসন।
আগামী ২১ জুন নিট-ইউজি ২০২৬-এর ফের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে জনসাধারণের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জালিয়াতি চক্রের হাত থেকে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ এবং বৈধ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য এনটিএ দুঃখ প্রকাশ করেছে, তবে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল বলে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের কোনও প্রকার গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।















