আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বিহারের 'হাই-প্রোফাইল' বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগণনা। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটগণনা। এই আসনে লড়ার কথা ছিল বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের। তবে এই আসনটি তাঁর ছাড়ার পর থেকেই এই উপনির্বাচন রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কেন্দ্রের ফলাফল শুধু প্রার্থীদের জেতাহারায় সীমিত নেই। বরং পরীক্ষার্থী ও যুব সমাজের প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বাঁকিপুর কেন্দ্রে মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ মোট ৩.৭৯ লক্ষ ভোটারই তরুণ প্রজন্মের। যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এখানে পটনা বিশ্ববিদ্যালয়, এনআইটি সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের উপস্থিতির কারণে তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি তথা গোটা দেশে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র (সিজেপি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা 'জেন জি' আন্দোলন এই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুবসম্প্রদায়ের সরকারবিরোধী এই ক্ষোভকেই হাতিয়ার করেছেন রাজনীতিবিদ ও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর দল 'জন স্বরাজ'। তাঁদের লক্ষ্য, তরুণ-তরুণীদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে উপনির্বাচনের বৈতরণী পার করা। অন্যদিকে, বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, পরীক্ষা সংস্কার টাস্কফোর্স এবং কড়া আইন প্রণয়নের কথা তুলে ধরে তরুণদের আস্থা আদায়ের চেষ্টা জারি রেখেছে।

ভোটের সমীক্ষা বা এক্সিট পোল অনুযায়ী, বিজেপি-র প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, প্রশান্ত কিশোরের দল জন স্বরাজ তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ ভালো সমর্থন পাবে বলে আশা করেছে। বিশেষ করে ২৬-৩৫ বয়সীদের মধ্যে এই দলের সমর্থন বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আরজেডি-র রেখা গুপ্তাও ত্রিমুখী লড়াইকে জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের ফল কী হবে তা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর। তরুণদের ভোটের হার, বিরোধী ভোটের বিভাজন রোধ এবং বিহারের ঐতিহ্যগত জাতিগত সমীকরণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যদি বিজেপি এই কেন্দ্রের আসন ধরে রাখতে সফল হয়, তবে প্রমাণ হবে যে 'জেন জি' আন্দোলন ভোটবাক্সে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। আর যদি প্রশান্ত কিশোরের দল বড় চমক দেখায়, তবে তা বিহারের রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।