আজকাল ওয়েবডেস্ক: যন্তর মন্তরের আন্দোলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন এক নাবালিকা। যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। শেষমেষ গত শুক্রবারই ওই নাবালিকাকে ক্ষমা করার কথা জানিয়েছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। অভিযুক্ত নাবালিকা নিজেও নিজের ভুল স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাভিক্ষা করেছিলেন। এরপর ওই নাবালিকার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিল দিল্লি পুলিশ। অর্থাৎ, কিশোরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এর বিষয়ে দিল্লি পুলিশ আর কোনও আইনি পদক্ষেপ করবে না। নয়ডা পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি 'জিরো এফআইআর' দায়ের করা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত কিশোরী নিজের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওতে জানিয়েছিল যে, তার বয়স ১৫ বছর, বিক্ষোভের জায়গায় অন্যদের প্ররোচনায় বা প্রভাবিত হয়ে সে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যগুলো করেছিল। ভিডিওটিতে নাবালিকা বলেছিল, “আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি যা করেছি তা ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি অনেক খারাপ কথা বলেছি। এটাই আমার প্রথম ও শেষ ভুল। আমি পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি অত্যন্ত লজ্জিত। আমি নিজের দিকে তাকাতেও পারছি না। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় নমনীয় আচরণের আবেদন জোরালো হওয়ার পর, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন যে, তাঁকে গালিগালাজ করা “পথভ্রষ্ট শিশুদের” তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রাম রিল-এর মাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, “তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে ঘোরানো বা হেনস্থা করার মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না। আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। আমি সমাজের কাছেও অনুরোধ করছি আমার এই বক্তব্যকে মেনে নেওয়ার জন্য।”
ওই কিশোরীর মা-ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যেন তিনি দিল্লি পুলিশকে এফআইআর তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নাবালিকার মা'য়ের আর্থি ছিল, “দেশের যে মেয়েটি এমন কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছিল, তাকে ক্ষমা করে প্রধানমন্ত্রী মোদি মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি হাত জোড় করে তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজ তার নতুন জন্ম হল। প্রধানমন্ত্রী তাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।” মায়ের আরও আবেদন ছিল যে, “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে অনুরোধ করছি, ভুল নাম ও বয়স উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তা যেন প্রত্যাহার করা হয়... এখন সে আপনার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।”
ওই মা প্রধানমন্ত্রীকে নাবালকদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক বন্ধ করা উচিত। তাদের কেবল পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। বিক্ষোভস্থলে তাদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া ঠিক নয়। এই শিশুদের সহজেই ভুল পথে চালিত করা যায় বা তাদের পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া যায়। তারা বাইরের জগৎ সম্পর্কে কিছুই জানে না।” ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি সবার নজরে আসে, তবে দিল্লি পুলিশ এখন ওই নাবালকের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করারর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ব্যাপকভাবে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনের পর, গত ২৫ জুলাই দিল্লিতে যন্তর মন্তরে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও তাঁর ২৬ দিনের অনশন চলাকালে এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে সমর্থন জানান।
আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে বিশাল মিছিল ছিল এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য মোড়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। শেষে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা সংস্কার-সহ সংগঠনের প্রধান দাবিগুলো সরকার মেনে নেওয়ার পর সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন সমাপ্তি ঘোষণা করে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে জনমনে তৈরি ক্ষোভকে কেন্দ্র করেই যন্তর মন্তরে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী সেখানে সমবেত হন এবং অনশনরত অবস্থায় সোনম ওয়াংচুকের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও বেশি দৃশ্যমান ও জোরালো করে তোলে। বিক্ষোভের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সংঘাত এবং পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা এই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো সরকার মেনে নেওয়ায় সিজেপি ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন সমাপ্ত করে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পরিচালনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানের ওপরই মূলত এই আন্দোলনটি নথিভুক্ত ছিল।
















