আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে গিয়ে নয়া রূপে দেখা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দিল্লিতে বৈঠক ছিল এনডিএ-র। সেখানেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে ছিল খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। ছিল ঝালমুড়ির স্টল। আর সেখানেই বড় চমক। টেবিলের এপারে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাওয়ার অপেক্ষায়। আর টেবিলের ওপারে ঝালমুড়ি দিচ্ছেন কে?

না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিধানসভা রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখা ঝালমুড়ি যে এখন দিল্লিতেও হট ফেভারিট তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

 

এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঝালমুড়ির স্টলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি। আর টেবিলের ওপার থেকে শালপাতায় করে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খাওয়াচ্ছেন শুভেন্দু।

ভিডিওতে আরও দেখা গিয়েছে, মোদির সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। মোদি নিজে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর নীতিন নবীনের হাতে নিজে প্লেট তুলে দেন মোদি।

উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মোদির সেই ঝালমুড়ি খাওয়া বুস্টারের মতো কাজ করেছিল বিজেপির কাছে। পরে বিপুল ভোটে নির্বাচনে জিতে রাজ্যে সরকার গড়েছে বিজেপি। 

নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনও ঝালমুড়ি খেয়ে সেলিব্রেশন করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মীদের। এবার সেই ঝালমুড়ির রেশ পড়েছে দিল্লির রাজনীতিতেও।

খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাওয়ালেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। এই ভিডিও পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। 

এর আগে ঝাড়গ্রামে সভা শেষ করে হেলিপ্যাডে যাওয়ার পথে হঠাৎই রাস্তার ধারের একটি ছোট দোকানে থেমে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গিয়েছিল মোদিকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেই প্রেক্ষাপটেই কলেজ মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই হঠাৎ থামা যেন রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি জনসংযোগের এক অভিনব দৃষ্টান্ত হয়ে উঠল। একটি সাধারণ রাস্তার দোকান, চারপাশে ভিড় করা সাধারণ মানুষ—মহিলা, শিশু ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে বসেই তিনি ঝালমুড়ি উপভোগ করেন।

এমনকী পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের দিকেও এগিয়ে দেন সেই ঝালমুড়ির অংশ, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়।

এর আগেও বিভিন্ন রাজ্যে প্রচারের সময় রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে চা খাওয়া বা স্থানীয় খাবার চেখে দেখার মাধ্যমে নিজের ‘চাওয়ালা’ পরিচিতিকে বারবার সামনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদির এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক কৌশল হিসেবেই দেখা হয়। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ কিংবা অসম—বিভিন্ন জায়গায় তাঁর এমন ‘স্ট্রিট কানেক্ট’ আগেও নজর কেড়েছে।