আজকাল ওয়েবডেস্ক: সারা ভারত কৃষক সভার ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়নাগুড়িতে আয়োজিত জলপাইগুড়ি জেলা কৃষক সভার কর্মীসভায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হল। কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাল কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি সংকট, সার ও বীজের বেআইনি কালোবাজারি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। এসবের প্রতিবাদে আগামী ১০ আগস্ট দেশজুড়ে আইন অমান্য ও 'জেল ভরো' আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কর্মীসভায় পরেশ পাল অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের নানা হিসাব তুলে ধরে অন্নপূর্ণা যোজনার বাজেট বরাদ্দ ও গ্যাসের দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সারের কালোবাজারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, কৃষকদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় সার কিনতে হচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দেশে ৮০ শতাংশ গ্রামবাসী কৃষির সঙ্গে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও লাভজনক না হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, আগামী দিনে খরার পূর্বাভাস ও ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে আলু ও পাট চাষিদের দুর্দশার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ধান ও আলু চাষিদের জন্য ঘোষিত নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপায়িত হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টার বিষয়গুলি তিনি তাঁর বক্তব্যে নিয়ে আসেন।
সভায় কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ হুসেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সারের কারখানা বন্ধ হওয়া এবং ভর্তুকি কমে যাওয়ার ফলে কৃষকদের বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে বীজের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে তিনি জানান।
জেলা সভাপতি আশীষ সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল, সলিল আচার্য, জিতেন দাসসহ কৃষক সভার অন্যান্য রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে কৃষক, খেতমজুর ও শ্রমিকদের নানা দাবি নিয়ে আগামী ১০ আগস্টের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
















