ভারতের বর্ষা এখন যেন পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয়। একদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি মৌসুমি নিম্নচাপ দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিম রাজস্থানের উপর অবস্থান করছে আরেকটি নিম্নচাপ, যা আরব সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প টেনে আনছে।
2
10
এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পৃথক দুটি ঘূর্ণাবর্ত এবং তাদের সংযোগকারী একটি পূর্ব-পশ্চিম শিয়ার জোন। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই জোড়া সিস্টেমই আগামী কয়েকদিন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রধান কারণ হতে চলেছে।
3
10
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার আবহাওয়া উপগ্রহ সর্বশেষ ইনফ্রারেড চিত্রে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর বিশাল মেঘ দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে। একই সময়ে আরব সাগরের দিক থেকেও শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের পশ্চিম উপকূলে প্রচুর আর্দ্রতা নিয়ে আসছে। এই দুটি প্রক্রিয়া মিলেই গোটা দেশের বর্ষা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে তুলেছে।
4
10
গত ২৪ ঘণ্টায় ওড়িশার জগৎসিংহপুরে প্রায় ৩৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, যা এই মৌসুমি ব্যবস্থার তীব্রতার প্রমাণ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এমন প্রবল বৃষ্টিপাত তখনই হয় যখন বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচু পর্যন্ত বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। মেঘের মাথা যত ঠান্ডা হয়, মেঘ তত বেশি উঁচুতে পৌঁছায় এবং তত বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
5
10
বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া মৌসুমি নিম্নচাপটির কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
6
10
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং ওড়িশার পারাদীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
7
10
অন্যদিকে আরব সাগরে বড় কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি না হলেও, সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে জলীয় বাষ্প ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
8
10
কেরল, কর্ণাটক, গোয়া, কঙ্কণ উপকূল, সৌরাষ্ট্র এবং গুজরাট অঞ্চলে এই আর্দ্র বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উপরে উঠে ঘন মেঘ তৈরি করছে। একই সঙ্গে পশ্চিম রাজস্থানের উপর অবস্থান করা নিম্নচাপও এই আর্দ্রতাকে আরও ভেতরের দিকে টেনে এনে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
9
10
এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থাকে একসূত্রে বেঁধেছে পূর্ব-পশ্চিম শিয়ার জোন, যা প্রায় ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর বিস্তৃত। এই শিয়ার জোন এমন একটি অঞ্চল যেখানে বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতিপথ ও দিক হঠাৎ পরিবর্তিত হয়। ফলে বাতাস দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
10
10
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এবং আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্রতার এই যুগল প্রভাব আগামী কয়েকদিন পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম ভারতের বহু এলাকায় প্রবল বর্ষণ অব্যাহত রাখতে পারে। বিশেষ করে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।