আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে ইতিমধ্যেই অনশন ভেঙেছেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘সেটিং’ তত্ত্বের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন সোনম ওয়াংচুক।
তাঁর প্রশ্ন, ২৬ দিনের অনশনের পরেও তাঁকে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে? শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারের সঙ্গে কোনও ধরনের ‘সমঝোতা’ বা ‘ডিল’ করে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেননি।
নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশনে বসেন ওয়াংচুক। ২৬ দিন পর শরীর যখন আর সঙ্গ দিচ্ছিল না সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাড্ডার উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন তিনি।
তারপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিওর সঙ্গে ওয়াংচুক লেখেন, ‘২৬ দিন অনশন করার পরেও কি আমাকে আলাদা করে প্রমাণ দিতে হবে?’
তিনি সকলকে অনুরোধ করেন, কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সম্পূর্ণ ২২ মিনিটের ভিডিওটি দেখার জন্য এবং তাঁর বক্তব্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
ভিডিও বার্তায় কারও নাম উল্লেখ না করলেও, যাঁরা সরকারের সঙ্গে তাঁর গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলছেন তাঁদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, এমন অভিযোগ তাঁর দীর্ঘ অনশন এবং আন্দোলনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার সমান।
ওয়াংচুকের দাবি, তাঁর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সেই উদ্দেশ্য থেকে তিনি এক চুলও সরে আসেননি বলেও স্পষ্ট জানান।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস-সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে সূচনা আন্দোলনের। দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। এই দাবিতেই দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভের সুর তোলে ককরোচ জনতা পার্টি।
তাতে সামিল হয় পরীক্ষার্থী, পড়ুয়ারা। ওই আন্দোলন সমর্থন করে, জুন মাসের ২৮তারিখ থেকে অনশন শুরু করেন সোনম। যন্তর মন্তরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন তিনি। সোনমের অনশন, নতুন মাত্রা দেয় আন্দোলনকে।
একদিকে বাড়তে থাকে প্রতিবাদীদের সংখ্যা। অন্যদিকে সমাজের নানা স্তরের মানুষ, সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানান। রাজনীতি থেকে বিনোদন দুনিয়া, একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বিশিষ্ট সমাজকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যন্তর মন্তরে গিয়েছেন।
একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ তাঁকে অনশন তোলার আর্জি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। এসবের মাঝেই, আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে। তবে, ১৮ জুলাই সোনম ওয়াংচুককে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথমে সাফদারজং পরে মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। যদিও যন্তর মন্তরে থাকাকালীনই উদ্বেগ বাড়ছিল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে। তবে হাসপাতালে গিয়েও, নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন সোনম ওয়াংচুক।
অবশেষে, অনশনের ছাব্বিশ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ভাঙলেন পণ। স্ত্রী গীতাঞ্জলি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন সোনম।
















