আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার সময়সীমা চতুর্থবারের জন্য বাড়াল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য আরও ৩০ দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ফলে এখন দাবিদাওয়া ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ বাড়িয়ে ৬ মার্চ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১০ এপ্রিল।

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশে SIR প্রক্রিয়ার খসড়া ভোটার তালিকা প্রথমে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল গত ৯ ডিসেম্বর। কিন্তু পরপর একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়। প্রথমে তা পিছিয়ে যায় ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৩১ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় দফায় ৬ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য করা হয়। তৃতীয়বারের সংশোধনী অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাবিদাওয়া ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু গত মাসে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যায়, রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা উত্তরপ্রদেশের মোট ভোটারের প্রায় ১৮.৭০ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানান, এখনও বিপুল সংখ্যক মহিলা ও যুবক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন। তাঁদের সামনে এসে নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। নবদীপ রিনওয়া বলেন, “এখন আমাদের হাতে আরও এক মাস সময় রয়েছে। যাঁরা ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন। সেখানে ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ পাওয়া যাবে। যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরা সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে মহিলা, যুবক এবং যাঁদের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি তাঁদের এগিয়ে আসার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এই SIR প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ আসলে বিজেপির সমর্থক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রায় চার কোটি ভোটার তালিকা থেকে উধাও। এঁরা আপনার বিরোধী নন। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশই বিজেপির ভোটার।”

উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও দেশের আরও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি, যেগুলি আগামী দিনে বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচন আসন্ন হলেও অসমে বর্তমানে SIR নয়, কেবলমাত্র একটি সাধারণ সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার হার উদ্বেগজনক। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা গেছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৭.৬ শতাংশ। কেরলে বাদ পড়েছেন ২৪.০৮ লক্ষ ভোটার, মোট ভোটারের প্রায় ৮ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে এই সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ৯৭.৩ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া একদিকে যেমন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তেমনই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এখন দেখার, বাড়তি সময়সীমার মধ্যে কতটা কার্যকরভাবে বাদ পড়া ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং চূড়ান্ত তালিকা কতটা সর্বজনগ্রাহ্য হয়।