আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মধ্য কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার আরহামা বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে শুরু হওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় বিশাল সেনা তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।
সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, গান্ডেরবালের আরহামা এলাকার গভীর জঙ্গলে দুই থেকে তিনজন জঙ্গির আত্মগোপন করে থাকার নির্দিষ্ট খবর পায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকাটি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জঙ্গিরা জওয়ানদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় সেনাবাহিনীও। রাতের অন্ধকারে জঙ্গিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য গোটা এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় এবং কৌশলগতভাবে সেনার অবস্থান পরিবর্তন করা হয়।
বুধবার সকালে শ্রীনগর ভিত্তিক চিনার কর্পসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, রাতভর চলা এই সংঘর্ষে একজন জঙ্গি খতম হয়েছে। তবে নিহতের নাম বা পরিচয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। মৃত জঙ্গির কাছ থেকে কোনও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘন অরণ্যের সুযোগ নিয়ে বাকি জঙ্গিরা যাতে গা ঢাকা দিতে না পারে, সেজন্য অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে গান্ডেরবাল জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাতেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের প্রশিক্ষণ একাডেমি অবস্থিত। এছাড়া লাদাখ ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ এই জেলার ওপর দিয়েই গিয়েছে। গত কয়েক বছরে এই শান্ত এলাকাটি জঙ্গিদের নিশানায় পরিণত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক অতীতেও গান্ডেরবালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর গগনগীর এলাকায় জেড-মোড় টানেলের নির্মাণস্থলে লস্কর-ই-তৈবার হামলায় এক স্থানীয় চিকিৎসক ও ছয়জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটিই গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামের বাইসারন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত ছিল, যে ঘটনায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। বর্তমানে আরহামার জঙ্গলে ঘেরাও হয়ে থাকা জঙ্গিরা সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ওদিকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
















