আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও চড়, থাপ্পড়, কখনও ব বেত্রাঘাত। ক্লাসরুমে নাবালক পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর শিক্ষিকার। কটুক্তি করতে করতে নাবালক পড়ুয়াদের বেত দিয়ে মারধরের ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার পরেই ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকরা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। জানা গেছে, স্কুলের নাবালক পড়ুয়াদের চরম হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শিক্ষিকার দেওয়া হোমওয়ার্ক যথাযথভাবে না করার জেরে সাত থেকে আটজন নাবালক পড়ুয়াকে চরম মারধর করেন। চড়, থাপ্পড় মারার পর, বেত দিয়েও বেধড়ক মারধর করেন তাদের। আহত পড়ুয়াদের বয়স ১০ বছরের মধ্যে।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে জৌনপুরের বদলাপুর থানার অন্তর্গত ভুলাহীন এলাকার এক স্কুলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই শিক্ষিকা চিৎকার করে ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, 'সব দায়িত্ব কি শুধু আমার?' তারপরেই পরপর কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন।
ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই, স্কুলে গিয়ে অভিভাবকরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি ঘিরে তদন্তের পর পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে এলবিএস পাবলিক স্কুলে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও ঘটনাটি ঘিরে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার নির্দেশ দিয়েছে ব্লক এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট। এরপরই ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে জানিয়েছে তারা।
চলতি সপ্তাহে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। হোমওয়ার্ক না করার শাস্তি! চার বছরের খুদে পড়ুয়াকে গাছে ঝুলিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাছে ঝুলতে থাকে ওই পড়ুয়া। কান্নাকাটির পরেও তার রেহাই মেলেনি। যে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় গোটা রাজ্যে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরাজপুরের নারায়ণপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের হংস বাহিনী বিদ্যা মন্দির স্কুলে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে চার বছরের এক খুদে পড়ুয়া। হোমওয়ার্ক না করার জন্য স্কুলের মধ্যে তাকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এরপর তার জামাকাপড় খুলে, হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, স্কুলের মধ্যেই এক গাছে খুদে পড়ুয়াকে ঝুলিয়ে রেখে, কড়া শাস্তি দেন ওই দুই শিক্ষিকা। ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। স্কুলের পাশের এক বাড়ির ছাদ থেকে ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন এক যুবক। দেখা গেছে, নিরুপায় হয়ে গাছ থেকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল ওই পড়ুয়া। গাছের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজল সাহু ও অনুরাধা দেবাঙ্গন নামের দুই শিক্ষিকা।
স্কুলে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা থাকে। সোমবার সকালে নির্দিষ্ট সময়েই স্কুলের দরজা খোলা হয়। নির্দিষ্ট সময়েই ক্লাস শুরু হয়। সেই সময় নার্পাসারি পড়ুয়াদের ঘরে ছিলেন কাজল সাহু। সকলের হোমওয়ার্ক দেখছিলেন। সকলের মধ্যে শুধুমাত্র একজন পুরো হোমওয়ার্ক করে আসেনি। সেই ছাত্রের উপরেই রাগে ফুঁসতে থাকেন তিনি।
রাগের মাথায় খুদে পড়ুয়াকে ক্লাস থেকে বের করে দেন। এরপর তার শার্টের সঙ্গে দড়ি বেঁধে স্কুল প্রাঙ্গণের একটি গাছে ঝুলিয়ে দেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেভাবেই গাছ থেকে ঝুলছিল সে। চিৎকার করে কান্নাকাটি করে তাকে নামানোর জন্য আর্জি জানায় ছাত্র। কিন্তু তাতেও তাকে নামিয়ে নেননি। ঘটনাটি ঘিরে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পড়ুয়ার পরিবার। এই ঘটনার পর দুই শিক্ষিকার দোষ স্বীকার করে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত শেষ করে পদক্ষেপ করবেন তাঁরা।
