আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও স্কুলের শৌচালয়ে, কখনও ফাঁকা বাড়িতে। নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ শিক্ষকের। ষড়যন্ত্র নয়। পাঁচ বছর স্কুল শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। তাকে কড়া সাজার নির্দেশ দিল আদালত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কুন্নুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিশেষ আদালত ১০ বছর বয়সি এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ওই স্কুল শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ওই শিক্ষক সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পালাথায়ীর এক স্কুলে ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত, টানা দু'মাস ১০ বছর বয়সি এক স্কুল ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল ৪৮ বছরের শিক্ষক পদ্মরজনের বিরুদ্ধে। থালাসেরি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের বিচারপতি জলারাজনী এম টি অভিযুক্ত শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত শিক্ষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পকসো ধারায় আরও দশ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পকসো আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড এবং এরপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ওই শিক্ষককে। নাবালিকার পরিবারকেই ওই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের শৌচালয়ে, এমনকী নিজের বাড়িতে ডেকেও নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিল ওই শিক্ষক। ২০২০ সালে ১৭ মার্চ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ওই বছর ১৫ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিজেপির নেতারা জানিয়েছিলেন, ওই শিক্ষক ষড়যন্ত্রের শিকার। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যে মামলায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর টানা তদন্তের পর, ট্রায়ালে ৪২ জন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ৯১টির বেশি তথ্য খতিয়ে দেখার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কুন্নুর সেন্ট্রাল জেলে ঠাঁই হয়েছে তার।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে আরও এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল মহারাষ্ট্রে। একটানা একবছর শিক্ষকের যৌন হেনস্থার শিকার হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল ১৬ বছরের এক কিশোর। ওই ছাত্র জানিয়েছে, তার নগ্ন ছবি ফাঁস করার হুমকি দিয়ে যৌন হেনস্থা করত ওই শিক্ষক। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল মুম্বইয়ের ঘাটকোপার এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছিল, টিউশনে পড়তে গিয়ে যৌন হেনস্থার শিকার হয় ১৬ বছরের ছাত্র। সে অভিযোগ জানিয়েছিল, বাড়িতে পড়ানোর অছিলায় তাকে ডেকে পাঠাত শিক্ষক। একদিন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে তার সামনে। এরপর তার কিছু নগ্ন ছবিও তোলে। সেই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করার হুমকি দিতে শুরু করে।
নির্যাতিত ছাত্র জানিয়েছিল, নগ্ন ছবিগুলা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যৌন হেনস্থা করত শিক্ষক। বাধা দিলেই বেধড়ক মারধর করত। কখনও চড়, কখনও বা কিল-ঘুষি মারত তাকে। টানা একবছর চরম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। অবশেষে থানায় শিক্ষকের কুকীর্তি ফাঁস করে ছাত্র।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ বছরের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে সে।
