আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন, কখনও বা বেপরোয়া গতির বলি। বছরভর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বহু মানুষ। ক্রমেই দেশজুড়ে বাড়ছে পথ দুর্ঘটনার হার। এমনকী আত্মহত্যা, খুনের চেয়েও পথ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলেই সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গেছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে আত্মহত্যা, খুনের তুলনায় পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর সম্ভাবনা বেশি। ১০ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ১৫ লক্ষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দেশে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় এই ১৫ লক্ষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক লক্ষ ৭৩ হাজার, আত্মহত্যা করেছেন এক লক্ষ ৭১ হাজার এবং খুনের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৭ জনের। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে গড়ে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২০ জনের, আত্মহত্যায় ৪০০ জন এবং খুনের জেরে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও খুন, এই তিনটি ঘটনা মিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি তিন মিনিটে সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের, প্রতি চার মিনিটে আত্মহত্যা, এবং প্রতি ১৭ মিনিটে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ২০১৪ সাল থেকে বহুগুণ বেড়েছে ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে এক লক্ষ ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৪ সালে এক লক্ষ ৪১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এর মাঝে শুধুমাত্র ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার খুন ও আত্মহত্যার তুলনায় অনেকটাই কম। কারণ কোভিডের কারণে লকডাউন ছিল। রাস্তাঘাটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০২০ ও ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনার তুলনায় আত্মহত্যায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে খুনের ঘটনা কমেছে ১৯ শতাংশ।
লকডাউনের পর ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার ফের ১৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ২০২২ সালে অতিমারি পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙেছিল সড়ক দুর্ঘটনার হার। ২০২৩ সালে যা নয়া রেকর্ড গড়ে। অর্থাৎ পরিকল্পনামাফিক খুন, আত্মহনন নয়, অসাবধানতাবশত, বেপরোয়া গতিই লক্ষ লক্ষ প্রাণহানির কারণ।
চলতি বছরেও একের পর এক ভয়ঙ্কর পথ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাজস্থানে পরপর গাড়িতে ডাম্পার ট্রাকের সজোরে ধাক্কার জেরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগেরদিন, রবিবার রাজস্থানেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি টেম্পো ট্র্যাভেলার। এর জেরে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুগামী একটি প্রাইভেট স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের, যার মধ্যে ১৯ জন যাত্রী ও এক মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। অক্টোবরে রাজস্থানেই চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন। নতুন বাসটি নিমেষের মধ্যে পুড়ে খাক। সেই বাসেই আটকে পড়েন যাত্রীরা। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু যাত্রী।
