আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোজ অফিস যাওয়ার পথে, ট্রেন ধরার আগে কিংবা বিকেলের আড্ডায়—হাতে এক কাপ গরম কফি থাকলে দিনটাই যেন অন্যরকম হয়ে যায়। বিশেষ করে টেকঅ্যাওয়ে কফি কাপের ঢাকনা লাগানো সেই পরিচিত প্লাস্টিকের লিড। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন, চুমুক দেওয়ার বড় ছিদ্রের পাশে আরও একটি ছোট্ট ছিদ্র থাকে?
অনেকেই মনে করেন এটি হয়তো ডিজাইনের অংশ বা অতিরিক্ত ফাঁক। কিন্তু আসলে এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ। বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, ছোট্ট এই ছিদ্রটি কফি ঠান্ডা করার জন্য বা অতিরিক্ত বাতাস ঢোকার পথ হিসেবে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি শুধু উৎপাদনের সুবিধার জন্য। কিন্তু সত্যিটা একেবারেই আলাদা।
আসলে এই ছোট ছিদ্রটি ‘এয়ার ভেন্ট’ বা বাতাস চলাচলের পথ হিসেবে কাজ করে। যখন আপনি কফিতে চুমুক দেন, তখন কাপের ভেতর থেকে তরল বেরিয়ে আসে। যদি বাতাস ঢোকার কোনও আলাদা রাস্তা না থাকে, তাহলে কাপের ভেতরে এক ধরনের ভ্যাকুয়াম বা নিম্নচাপ তৈরি হয়। ফলে কফি ঠিকমতো বেরোতে পারে না, হঠাৎ করে ঝাঁকুনি দিয়ে বেরিয়ে এসে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
এই ছোট ছিদ্রটি সেই সমস্যার সমাধান করে। এটি দিয়ে বাইরের বাতাস কাপের ভিতরে ঢোকে, ফলে চাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে কফি মসৃণভাবে প্রবাহিত হয় এবং আপনি আরামে চুমুক দিতে পারেন। অর্থাৎ, কফি যেন হঠাৎ করে মুখে ছিটকে না পড়ে—সেটাই নিশ্চিত করে এই ক্ষুদ্র ছিদ্র।
শুধু তাই নয়, এই ভেন্ট হোল কফির তাপমাত্রা ও বাষ্প বের হতেও সাহায্য করে। গরম কফি থেকে যে বাষ্প তৈরি হয়, তা বের হওয়ার সুযোগ পায়। এতে কাপের ভিতরে অতিরিক্ত চাপ জমে না এবং ঢাকনা খুলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই ডিজাইন বহু পরীক্ষার ফল। বড় বড় কফি চেইনগুলো গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও আরামের কথা ভেবেই এই ছোট্ট ফিচার যোগ করেছে। কারণ গরম পানীয় যদি হঠাৎ ছিটকে পড়ে, তাহলে পোড়া লাগার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মজার ব্যাপার হল, আমরা প্রতিদিন এই ঢাকনা ব্যবহার করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে খুব কম মানুষই ভাবেন। একটি এত ছোট্ট ছিদ্র যে এত বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, তা সত্যিই অবাক করার মতো।
তাই পরেরবার যখন কফির কাপ হাতে নেবেন, একবার ঢাকনাটার দিকে তাকিয়ে দেখুন। এই ছোট্ট ছিদ্রটাই আপনার কফি খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করে তুলছে। ছোট ডিজাইন, কিন্তু কাজ একেবারে বড়—ঠিক কফির মতোই!
