আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার একটি নিপাট শান্ত গ্রামে হঠাৎই চাঞ্চল্য। গ্রামেরই এক বিবাহিত মহিলা অন্য এক মহিলার সঙ্গে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রামে ফিরতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে উদয়পুরওয়াতি থানা এলাকার মাইনপুরা গ্রামে। মহিলার শ্বশুরবাড়ি এবং নিজের পরিবার উভয়েই এই সম্পর্কের বিরোধিতা করে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিবাহিত ওই মহিলা কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীকে ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চলে যান। 

তাঁর অভিযোগ ছিল, স্বামী নিয়মিত মদ্যপান করে তাঁর ওপর শারীরিক অত্যাচার চালাতেন। এরপর তিনি বেঙ্গালুরুতে এক যুবতীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। দশ দিন আগে, ওই দুই মহিলা ফিরে আসেন মহিলার নিজের গ্রামে। এরপরই উভয় পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে। গ্রামে শুরু হয় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্থানীয় পুলিশকে ডাকা হয়। উদয়পুরওয়াতি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দুই মহিলা পুলিশকে জানান, তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছেতেই একসঙ্গে থাকছেন।

তারা পরিবারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন এবং পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানান। পুলিশ জানায়, আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। পুলিশের কথায়, ‘তারা আমাদের কাছে সুরক্ষার আবেদন করেছেন এবং আমরা তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছি’। অন্যদিকে, মহিলার পরিবার আগেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল। কিন্তু মেয়ের ফিরে আসার পরে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মহিলা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর চার বছরের এক সন্তানও রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পুরনো জীবনে তিনি আর ফিরতে চান না। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকাটাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য তাঁর।