আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনার মধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাকি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজ কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।


বর্তমানে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য দায় নির্ধারণ করতে হবে।


যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই। কেন্দ্রের বক্তব্য, "পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।" ফলে আপাতত তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।


শনিবার ১০ জনপথের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ছাত্রদের তিনটি দাবি রয়েছে এবং সেই দাবিগুলি কোনওভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। তাঁর কথায়, "প্রথম দাবি হল শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"


রাহুল আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনও মন্ত্রকে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এদিক-ওদিক সরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁকে বরখাস্ত করতেই হবে।"


কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী বর্তমানে দেশের ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনায় দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই এবং সরকারের উচিত অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।


এদিন রাহুল গান্ধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যাঁরা ছাত্রদের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।


একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দেশের ছাত্রদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, "দেশের ভবিষ্যৎ হল ছাত্র-যুব সমাজ। তাঁদের কণ্ঠস্বর দমন করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন টিকতে পারে না।"


উল্লেখ্য, শনিবারই কেন্দ্রের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে দু'টি বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতেই এখনও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।


এদিকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করার অবস্থানেই অনড় থাকে, তাহলে আলোচনার আর কোনও অর্থ নেই। প্রয়োজনে আগামী দিনে ফের সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হতে পারে বলেও আন্দোলনকারীদের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা মন্ত্রককে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

&t=28s