আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা ও আপ-এর মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। রবিবার নতুন করে দলকে আক্রমণ শানিয়ে চাড্ডা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে রাজ্যসভায় তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের ক্লিপ তুলে ধরা হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি পাঞ্জাবের নানা সমস্যা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন, পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের অভিযোগের জবাবও দেন।
চাড্ডা ভিডিওতে বলেন, “পাঞ্জাব আমার কাছে কোনও আলোচনার বিষয় নয়, এটি আমার বাড়ি, আমার দায়িত্ব, আমার মাটি, আমার আত্মা।” তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু একটি ট্রেলার… আসল গল্প এখনও বাকি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে বিতর্ক এখানেই শেষ নয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ আসতে পারে।
এই ভিডিও বার্তা আসলে আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে যে, তাঁকে রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই তিনি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন। শনিবারও তিনি একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
চাড্ডার অভিযোগ, তাঁকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয় তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। যদিও আপ নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, তিনি দলীয় লাইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলছিলেন না এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরব হচ্ছিলেন। দলের তরফে একাধিক নেতা চাড্ডার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের ভাঙন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চাড্ডা আন্দোলনের সময় থেকেই আপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালে দল গঠনের পর তিনি দ্রুতই দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
২০১৯ সালে দক্ষিণ দিল্লি লোকসভা কেন্দ্রে তিনি নির্বাচন লড়লেও জয় পাননি। তবে ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করেন। একই বছরে তাঁকে পাঞ্জাবে দলের সহ-ইনচার্জ করা হয়, যেখানে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আপের ঐতিহাসিক জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই নির্বাচনে আপ ১১৭টির মধ্যে ৯২টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসে।
&t=2s
এরপর ২০২২ সালের মার্চে পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন চাড্ডা। তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে এই মুহূর্তে দলীয় দ্বন্দ্ব তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দ্বন্দ্ব শুধু ব্যক্তিগত মতভেদের বিষয় নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিফলন। আগামীদিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা আপের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
















