আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন নিজেই সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই সফরের ঘোষণা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


ক্রিস্টোফার লাক্সন তাঁর পোস্টে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিউজিল্যান্ডে স্বাগত জানাতে তিনি আনন্দিত। তিনি ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং এর ফলে নিউজিল্যান্ডে কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।


যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও এই সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেনি, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে পৌঁছাতে পারেন এবং পরের দিন ভারত ফিরে আসবেন। তার আগে তিনি ৪ জুলাই রাজস্থান ও গুজরাট সফরে যাবেন বলে জানা গেছে।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি সেশেলস সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। সেখানে তিনি সেশেলসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।


ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই সফরের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য বাড়ানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


চুক্তি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড ভারতের অর্থনীতিতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সমস্ত রপ্তানি পণ্য নিউজিল্যান্ডে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।


নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের মতে, এই চুক্তির ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বিশাল ভারতীয় বাজারে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার প্রবেশ আরও সহজ হবে। এর মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়ায় প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র পরিষেবা খাতেই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায়িক পরিষেবা এবং পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।


আগামী সপ্তাহের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কৃষি, শিক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

&t=1s