আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র ৯০ হাজার টাকার জন্য ছয় দিনের একটি শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দিয়েছিল তার বাবা-মা। জানতে পেরেই নিজের ছেলে-বউমার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন সদ্যজাতর ঠাকুমা। তাতেই কাজ হল। পুলিশের সক্রিয় চেষ্টায় উদ্ধার হয়েছে সদ্যজাত শিশু কন্যাটি। আপাতত শ্রীঘরে মেয়েটির বাবা-মা, মধ্যস্থতাকারী মহিলা এবং ওই শিশুটিকে কেনা পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের থানে জেলার উলহাসনগরের ৪ নম্বর ক্যাম্পের মারাঠা সেকশনের।

এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২শে জানুয়ারি। উলহাসনগরের ৪ নম্বর ক্যাম্পের মারাঠা সেকশনে বসবাসকারী গায়কোয়াড় পরিবারে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, ছয় দিনের মধ্যে সদ্যজাত মেয়েটিকে বিক্রি করে দেয় তার বাবা-মা। কিন্তু, মেয়েটির অদৃষ্টের লিখন অন্য কিছু। নাতনি হয়েছে শুনে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান মেয়েটির ঠাকুমা। তিনি দেখেন শিশুটি নিখোঁজ। নিজের ছেলে বিশালকে নাতনি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে, সে শিশুটিকে বিক্রি করার কথা স্বীকার করে নেয়।

নাতনিকে বিক্রির খবর শুনে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধা। তবে,হাল ছাড়েননি তিনি। নিজের ছেলে ও পুত্র-বধূর কুকীর্তিকে প্রশ্রয় দেননি বৃদ্ধা, উল্টে তাঁদের শাস্তির ব্যবস্থা করেন। নাতনিকে ফিরে পেতে ছেলে বিশালকে টাকা ফেরৎ দেওয়ার অনুরোধ করেন বৃদ্ধা। কিন্তু, বিশাল কোনও সদুত্তোর দেননি। বৃদ্ধা ঠাকুমাও কারা তাঁর নাতনিকে কিনেছেন তা জানতেন না। কিন্তু, ছয় দিনের নাতনিকে ফিরে পেতে মরিয়া ছিলেন বৃদ্ধা। শেষমেষ উপায় না দেখে বৃদ্ধা উলহাসনগর কেন্দ্রীয় থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। সদ্যজাত মেয়েটির বাবা-মা, মধ্যস্থতাকারী মহিলা এবং শিশুটিকে কেনা পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযুক্ত সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ছয় দিনের শিশুটিকে। ওই শিশুটিকে বিক্রি করার নেপথ্যে আসল উদ্দেশ্য এবং ক্রেতা পরিবারটি আগে কখনও কোনও শিশু কিনেছিল কিনা তার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।

তবে, ঠাকুমার দৃঢ়তায় এ যাত্রায় রক্ষা পেল ওই সদ্যজাত শিশু কন্যাটি।