আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরে ডাক্তারির প্রবেশিকা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস নিয়ে তোলপাড় হয় দেশ। পরীক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি প্রকাশ্যে চলে আসার পর অভিনব উদ্যোগ জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা এনটিএ-র। এ বার প্রশ্নপত্র তৈরির গোটা পদ্ধতিটিকেই আমূল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল এনটিএ। তবে শুধু নিট নয়, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা এনটিএ পরিচালিত অন্য যেকোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরাও জানতে পারবেন না যে তাঁদের তৈরি প্রশ্ন ঠিক কোন পরীক্ষায় আসতে চলেছে। তবে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে নয়, আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে এই পদ্ধতি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রশ্নফাঁস রুখতে এবার কোনও একজন ব্যক্তির ওপর ভরসা করা হবে না। বরং গড়ে তোলা হবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা। কেন্দ্রের এই নয়া উদ্যোগকে 'জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার' আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি চলতি বছরের নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তে নামে সিবিআই। সেই সূত্রে অনুবাদক এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদের একেবারের গোড়া থেকেই বেশ কিছু গরমিল ছিল। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যা বিষয়ের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞরা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকায় প্রমাণিত হয় যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র নয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, "যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়, তবে সেটা পেন-পেন্সিলের সমস্যা নয়। এটা গোটা প্রক্রিয়ার পরিকাঠামোগত ত্রুটিকেই প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। আমরা প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়া থেকে মানুষের হস্তক্ষেপ যতটা সম্ভব কমাতে চাইছি। সেই কারণেই এই 'জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার' আনা হচ্ছে।"
নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন তৈরি করতে বলা হবে না। তাঁদের কাজ হবে, শুধু একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্নভাণ্ডারে প্রশ্ন তৈরি করে জমা দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, "বিশেষজ্ঞরা কোন পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন বানাচ্ছেন, তা নিয়ে বিন্দুবিসর্গও জানতে পারবেন না। প্রশ্নটি নিট, জয়েন্ট নাকি অন্য কোনও পরীক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে, তার আন্দাজ পাবেন না। এর ফলে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রটি কেমন হতে চলেছে, তা কোনও একজন ব্যক্তির পক্ষে আগে থেকে জানা সম্ভব হবে না।"
এনটিএ সূত্রে খবর, হাজার হাজার প্রশ্ন নিয়ে একটি বিশাল প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি করা হবে। সেই ভাণ্ডারে প্রায় ১০,০০০ প্রশ্ন জমা থাকতে পারে। পরীক্ষার আগে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ভাণ্ডার থেকে প্রশ্ন বেছে নিয়ে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। প্রশ্নগুলি কেমন হবে, কতটা কঠিন হবে এবং সিলেবাসের কোন অংশ থেকে কতটা প্রশ্ন থাকবে, তা-ও নির্ধারণ করবে ওই প্রযুক্তি। এর ফলে প্রশ্নপত্রটি কোনও মানুষ আগে থেকে জানতে পারবেন না।।
চলতি বছরের প্রশ্নফাঁসে অনুবাদকদের ভূমিকা সামনে আসার পর, অনুবাদের নিয়মেও বড়সড় সংস্কার করা হচ্ছে। আগেই সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক হলফনামায় এনটিএ জানিয়েছিল যে, তারা প্রশ্নপত্র অনুবাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা করছে। বাকি ১৫ শতাংশ কাজের ক্ষেত্রে মানুষের সাহায্য নেওয়া হবে। যাতে সেই অনুবাদ নির্ভুল কিনা, তা যাচাই করা যায়।















