আজকাল ওয়েবডেস্ক: বরেলির কিলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এক মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনাহারে এবং অযত্নে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। যদিও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অসুস্থতা ও সংক্রমণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বরেলির কিলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এক বুকফাটা হাহাকারের ছবি সামনে এসেছে। এক মাস বয়সী এক শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল। অভিযোগ উঠেছে, ঘরে খাবার না থাকায় এবং দীর্ঘক্ষণ একা পড়ে থাকায় অনাহারে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। তবে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি করেছে ধোঁয়াশা।

শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ শিশুটির বাবা মহম্মদ শাদাব এবং মা হিনা অন্য দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। অভাবের সংসার চালাতে তারা ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘরে তখন একলা পড়ে ছিল এক মাস বয়সী ওই একরত্তি। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তারা যখন বাড়ি ফেরেন, দেখেন শিশুটি নিস্পন্দ অবস্থায় পড়ে আছে। শত চেষ্টাতেও তার কোনো সাড়া মেলেনি। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন, ততক্ষণে সব শেষ।

বাবা শাদাব জানিয়েছেন, এক সময় তিনি ঘুড়ির সুতো তৈরির কাজ করতেন। কিন্তু করোনাকালে কাজ হারিয়ে পথে বসেন তিনি। শাদাবের কথায়, "করোনার সময় কাজ চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনওমতে দিন কেটেছে। কিন্তু এখন আর উপায় নেই, তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে শুরু করেছি।" এই চরম দারিদ্র্যই কি কেড়ে নিল একরত্তির প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। যদিও স্থানীয়দের দাবি শিশুটি খিদের জ্বালায় মারা গেছে, কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অন্য তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুটি দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও সংক্রমণের শিকার ছিল। অনাহারে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ এখনই কোনও  আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়নি। গাফিলতির কোনও  দিক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, এর আগেও এই দম্পতির আরেকটি সন্তান প্রায় একই রকম পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছিল। তবে এই তথ্যের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ঘটনার পর পরই শাদাব তার ভাড়া বাড়িটি ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। দারিদ্র্য আর অসুস্থতার এই লড়াইয়ে শেষমেশ জয়ী হতে পারল না এক মাসের ওই নিষ্পাপ প্রাণ। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।