আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় এক ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা। একতরফা ভালোবাসা। প্রত্যাখ্যানের জেরে মাত্র ২৩ বছর বয়সী এক যুবতীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় নৃশংসভাবে হত্যা করে এক যুবক। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবতীর নাম ঋতু ভান্ডারকর। তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক তখনই তাঁর ওপর হামলা করে রোশন ধারভে নামের এক যুবক। রোশন ধারালো ছুরি দিয়ে ঋতুর গলা কেটে দেয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক বারবার যুবতীর গলায় ছুরি মারছে। আশেপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, বরং অনেকে ঘটনার ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।
অভিযুক্তকে বলতে শোনা যায়, "পাঁচ বছর ধরে ও আমার সঙ্গে ছিল। আমরা এক সঙ্গে জীবন কাটানোর কথা দিয়েছিলাম। এখন ও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। ও আর ওর ভাইয়েরা আমাকে খুন করার জন্য লোক পাঠিয়েছিল।" ঘটনাস্থলে এক মহিলা যখন এই নৃশংসতার কারণ জানতে চান, অভিযুক্ত যুবক ঠাণ্ডা মাথায় উত্তর দেয়, "ওর প্রাণ বেঁচে যাবে। তোমরা পুলিশকে ডেকে ওকে নিয়ে যাও।"
রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ঋতু ভান্ডারকর। অভিযুক্ত যুবক তখনও তাঁকে কোপাতে থাকে। এরপর সে ঋতুর ওড়না দিয়েই নিজের রক্তমাখা হাত মুছে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভান্ডারকর বাইহারে একটি আসবাবপত্রের দোকানে কাজ করতেন। প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতেন। যুবতী আমগাঁও ফাটা বাস স্টপে অপেক্ষা করার সময় মোটরবাইকে চড়ে সেখানে আসে অভিযুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রথমে দু'জনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা হয়, পরে তা তীব্র বচসায় পরিণত হয়। এরপরই অভিযুক্ত ছুরি বের করে ঋতুকে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।
এলাকার মানুষেরা এরপর অভিযুক্ত রোশনকে ধরে ফেলেন ও গণপিটুনি দেন। পুলিশ আসার আগেই সে গুরুতর আহত ও প্রায় অচেতন হয়ে যায়। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে খুনে ব্যবহৃত ছুরি ও দু'জনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঋতু সম্প্রতি অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, এই কারণেই সে রাগে উন্মত্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহত যুবতীর পরিবার ও শত শত গ্রামবাসী বাইহার থানার সামনে জড়ো হয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তাঁরা অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড, তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া, ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছেন।
জনতার ক্ষোভ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিড় সামলাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, “ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরা হয়েছে এবং জেরা করা হচ্ছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
