আজকাল ওয়েবডেস্ক: দাম্পত্য কলহের জেরে রাগের মাথায় নির্মমভাবে স্ত্রীকে খুন করেন স্বামী। নিজের কীর্তি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সকলকে জানিয়েছিলেন, স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। অবশেষে পুলিশের জালে ঘাতক স্বামী। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ভিড় জেলায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, নিজের স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ৪৮ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁর কীর্তি ফাঁস হয়েছে। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দম্পতি হাটোলায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। মৃত যুবতীর নাম, শিলাবাই শেরফুলে (৪৫)। তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে একাধিকবার সজোরে আঘাত করে খুন করেছেন স্বামী। শুক্রবার রাতে তুমুল অশান্তি হয়েছিল দম্পতির। সেই সময়েই রাগের মাথায় স্ত্রীর ওপর হামলা করেন সুরেশ। ঘটনাস্থলেই তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। 

 

প্রথমে তিনি জানিয়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তড়িঘড়ি করে নান্দেদ জেলায় নিজের গ্রামে স্ত্রীর দেহ দাহ করতে প্রাইভেট গাড়িতে রওনা দেন। কিন্তু প্রতিবেশীদের সন্দেহ হতেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। যুবতীর দেহ দাহ করার ঠিক আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় তারা। 

 

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, মাথায় গুরুতর চোট পেয়েই যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। অন্যদিকে সুরেশকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে তারা। ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

 

গত মাসের শেষেও এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। নিত্যদিন দাম্পত্য কলহ। অশান্তির জেরে জীবন জেরবার। কখনও আবদারের জন্য, কখনও বা সন্দেহের বশে। তিতিবিরক্ত হয়ে স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করেন স্বামী। ধামাচাপা দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করেন তাঁর স্বামী। খুনের পর গল্প ফেঁদে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশকে আগে জানিয়েছিলেন, ফুচকা খেতে গিয়েই নিখোঁজ হয়ে যান স্ত্রী। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেদিন এক যুবতীর দেহ উদ্ধার করে তারা। নিথর দেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। দেহটি শনাক্তকরণের পর জানা যায়, ৩৩ বছরের বধূ স্নেহাবেন আসোদিয়া তিনি। হিতেশ আসোদিয়ার স্ত্রী ছিলেন তিনি। দু'জনেই রাজকোটের বাসিন্দা ছিলেন। দেহ উদ্ধারের পরেই স্বামীকে সন্দেহ করে পুলিশ। 

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, স্নেহাবেনের সঙ্গে নিত্যদিন অশান্তি হত হিতেশের। সন্দেহের বশে স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা করতেন স্নেহাবেন। যা থেকে কথা কাটাকাটি ও অশান্তি লেগেই থাকত। প্রথমে নিখোঁজের গল্প বললেও, পরে স্বীকার করে নেন, স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে খুন করেছেন তিনি। 

 

তিন বছর আগে হিতেশ ও স্নেহাবেনের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তুমুল দাম্পত্য কলহ জীবন জেরবার করে তোলে। কাজে যখন হিতেশ ব্যস্ত থাকতেন, তখন সন্দেহের বশে বারবার ফোন করে বিরক্ত করতেন স্ত্রী। ফোন না ধরলেই অশান্তি শুরু হত। কারখানায় কাজ করতেন হিতেশ। কাজের চাপ, দাম্পত্য কলহের জেরে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল তাঁর। 

 

দম্পতির দুই বছরের এক ছেলেও আছে। শনিবার সন্ধ্যায় হিতেশকে ফোন করে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার আবদার করেছিলেন স্নেহাবেন। তখন আবারও ঝামেলা হয় তাঁদের। রাগের মাথায় কারখানা থেকে লোহার রড তুলেই বাড়ির দিকে রওনা দেন। এরপর স্নেহাবেনকে নিয়ে নির্জন এলাকায় চলে যান। সেখানেই স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে মেরে খুন করে পালিয়ে যান। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।