আজকাল ওয়েবডেস্ক: পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী হতে চান, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেরই সন্তান। মহারাষ্ট্রের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে ভোটে লড়া যায় না। সেই নিয়মকে ফাঁকি দিতে নিজের ছয় বছরের কন্যাসন্তানকে খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই ঘটনায় তোলপাড় মহারাষ্ট্রের নান্দেদ জেলা। অভিযুক্ত পাণ্ডুরং কোন্দমঙ্গলে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে বুদ্ধি দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় গ্রাম প্রধানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডুরংয়ের তিন সন্তান। এক পুত্র এবং দুই যমজ কন্যা। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ‘দুই সন্তান নীতি’র কারণে তিনি আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে তিনি শরণাপন্ন হন গ্রামেরই সরপঞ্চ গণেশ শিন্ডের। অভিযোগ, দুই বন্ধু মিলে ঠিক করেন বড় মেয়ে প্রাচীকে সরিয়ে দেওয়ার।
শুরুতে তাঁরা মেয়েটিকে দত্তক দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু তাতে আইনি নথি থেকে মেয়ের নাম মোছা যেত না। এরপর ঠিক করেন মেয়েকে কোথাও ফেলে আসবেন। কিন্তু পরে যদি সে ফিরে আসে? সেই ভয়ে শেষে মেয়েকে মেরে ফেলারই ছক কষেন তাঁরা।
পরিকল্পনা মতো, গত সপ্তাহে মেয়েকে বাইকে চাপিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য তেলঙ্গানার নিজামাবাদে নিয়ে যান অভিযুক্ত পাণ্ডুরং। সেখানে জনশূন্য এলাকায় একটি খালে মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেন তিনি। খালের জলে কিছু পড়ার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন, একটি শিশুর দেহ ভাসছে। পরে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে। তারা সমাজমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেয়। সেই ছবি দেখেই মহারাষ্ট্রের এক গ্রামবাসী প্রাচীকে চিনে ফেলেন।
পুলিশের জেরার মুখে প্রথমে পাণ্ডুরং দাবি করেছিলেন যে, তাঁর মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু কড়া জেরার মুখে শেষমেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করেন তিনি। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা যে একজন বাবাকেও এতটা নৃশংস করে তুলতে পারে, তা ভেবেই স্তম্ভিত তদন্তকারীরা।
