আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে একসময় যে সমালোচনা উঠেছিল, তার জায়গায় এখন ইতিবাচক ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের অর্থনীতিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে বাণিজ্য আলোচনায় সরকারের স্থির ও সুপরিকল্পিত অবস্থানই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, “শুল্ক নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল, কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরেছিলাম। আজ তার ফল চোখের সামনে।”

বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে মোদি আরও বলেন, “বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার গতিপথ ক্রমশ ভারতের দিকে ঝুঁকছে। আমি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছি। আজ আমরা দেখছি, বহু দেশে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন চললেও ভারত তার সুফল পাচ্ছে।”

এদিন প্রধানমন্ত্রী এনডিএ সাংসদদের সংসদে পূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের কাজকর্ম ও সাফল্যের কথা সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরার উপর জোর দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় বাজেটে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ও উদ্যোগগুলি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দলের নেতাদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০% থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।

সেই শুল্কের মধ্যে ২৫% ছিল পারস্পরিক শুল্ক এবং বাকি ২৫% অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, যা রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে আরোপ করা হয়েছিল।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে এবং মোট শুল্কহার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার সঙ্গে যুক্ত থাকা শাস্তিমূলক শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এখন কেবল সংশোধিত পারস্পরিক শুল্কই কার্যকর থাকবে দুই দেশের মধ্যে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় ভারত বর্তমানে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে। ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের ওপর কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

পাশাপাশি চীন ও পাকিস্তানের তুলনায়ও ভারতের শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮% শুল্কহারের ফলে ভারত এখন একাধিক আঞ্চলিক ও বিশ্বের তাবড় তাবড় প্রতিযোগীর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

শুল্ক কমানোয় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইট করে এই চুক্তির সম্পর্কে জানিয়েছেন। 

ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে এবং আমেরিকা এবং সম্ভবত ভেনিজুয়েলা থেকে আরও অনেক বেশি তেল কিনতে সম্মত হয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, এটি ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করবে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতও আমেরিকার বিরুদ্ধে আরোপ করা শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ করবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাঁর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে এবং তাঁর অনুরোধে, আমরা অবিলম্বে আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছি। এর ফলে পারস্পরিক শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হবে। একইভাবে, তারাও আমেরিকার বিরুদ্ধে তাদের শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনবে।'