আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপ এবং অ্যাপটির মালিকানাধীন সংস্থা মেটাকে ডেটা শেয়ারিং ও গোপনীয়তা নীতি নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্যবহারকারীদের তথ্য কোনওভাবেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মার্কিন এই সংস্থাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তা নিয়ে খেলতে পারেন না। আমরা এক চুল তথ্যও শেয়ার করতে দেব না। ভারতের আইন না মানলে আপনাদের দেশ ছাড়তে হতে পারে।’

এই শুনানিতে একাধিক আবেদন একত্রে শোনেন বিচারপতিরা। যার মধ্যে ছিল হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা এবং সিসিআইয়ের (কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া) দায়ের করা আবেদন।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের ডেটা শেয়ারিং ও বাজারে আধিপত্য সংক্রান্ত নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিল হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটা।

শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি সহ অন্যান্য আইনজীবীরা বিষয়টির আইনি জটিলতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, CCI জানায়, ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করে বাজারে নিজেদের অবস্থানকে অন্যায়ভাবে শক্তিশালী করছে সংস্থাগুলি।

প্রধান বিচারপতি তথাকথিত ‘ইনফর্মড কনসেন্ট’-এর দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, ‘রাস্তার বিক্রেতা বা গ্রামের সাধারণ মানুষ কীভাবে এত জটিল প্রাইভেসি পলিসি বুঝবে?’

মার্কিন ভিত্তিক দুটি সংস্থার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘হয় আপনাদের লিখিতভাবে জানাতে হবে যে কোনও ডেটা শেয়ার করা হবে না। নয়তো পুরো আবেদন খারিজ করে দেওয়া হবে।’

হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের গোপনীয়তা নীতি আন্তর্জাতিক মানের। মেটার তরফেও জানানো হয়, ডেটা শেয়ারিং শুধুমাত্র মূল সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি।

ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, ব্যবহারকারীদের চ্যাটের প্রবণতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিজ্ঞাপন দেখানো গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

উদাহরণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করে, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে ওষুধ নিয়ে কোনও রুগীর কথোপকথনের পরই সেই সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনা ডেটা মনিটাইজেশন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। অন্তর্বর্তী নির্দেশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ কোনও ব্যবহারকারীর তথ্য মেটার সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে না।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও সিসিআই-র আইনজীবীরা আদালতকে জানান, এনক্রিপশন থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীদের ডেটা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন প্রয়োগ করে মেটার তথ্য ও ব্যবহারকারীর সম্মতি সুরক্ষিত করা জরুরি। আদালতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারতের গোপনীয়তা কাঠামো ও ইউরোপীয় নিয়মকানুনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

ডেটার বাণিজ্যিক ব্যবহারকে কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। উল্লেখ্য, মামলাটি তিন বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। সব পক্ষকে ডেটা প্রাইভেসি, আচরণগত বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে বিস্তারিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে পক্ষভুক্ত করে মেটাডেটা সুরক্ষা নিয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।