আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে বিজেপি সমর্থিত পুর কাউন্সিলর শাহিদ মেও-র তৃতীয় স্ত্রী খুনের ঘটনায় রহস্যের সমাধান করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, শাহিদের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহিলই তাঁর সৎ মা রুবিনাকে কুপিয়ে খুন করেছে। বাবার তৃতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরেই আক্রোশ থেকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই যুবক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিনন্দন নগরে নিজের ভাড়াবাড়ির সামনেই আক্রান্ত হন রুবিনা। বাপের বাড়ি থেকে ফিরে অটো থেকে নামার সময় একটি বাইকে চড়ে দুই যুবক এসে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রুবিনার পেট, বুক ও মাথায় একের পর এক ছুরির কোপ বসিয়ে পালিয়ে যায় তারা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে শাহিদ মেও দাবি করেছিলেন যে, তাঁর কোনও শত্রু নেই এবং কেন এই আক্রমণ হল তা তিনি জানেন না।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল না। তবে আশপাশের অন্যান্য সোর্স ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে সাহিলকে আটক করা হয়। জেরায় সাহিল কবুল করে, বাবার তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই সে রুবিনার ওপর প্রচণ্ড চটে ছিল। এই খুনের কাজে সোহেল নামে এক বন্ধু তাকে সাহায্য করেছিল। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শাহিদ ও রুবিনার ব্যক্তিগত জীবনের জটিল টানাপড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, রুবিনার এটি চতুর্থ বিয়ে ছিল। আগের পক্ষের তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে শাহিদও তিনবার বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের তিন সন্তানের একজন হল অভিযুক্ত সাহিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এস বাঘেল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও বাবার নতুন সম্পর্কের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল।
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায় এক নৃশংস খুন৷ ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খোদ তাঁর স্ত্রীকে। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামীকে শেষ করে দেওয়ার পর মৃতদেহের পাশে বসেই সারারাত মোবাইলে 'দুষ্টু' ছবি দেখেছেন ওই মহিলা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম লোকাম শিব নাগরাজু। তিনি পেশায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী মাধুরীই এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে স্বামী নাগরাজুর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন মাধুরী। অভিযোগ, সেই খাবারে তিনি কড়া নেশার ওষুধ মিশিয়ে দেন। বিরিয়ানি খেয়ে নাগরাজু গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে মাধুরী তাঁর প্রেমিক গোপীকে বাড়িতে ডেকে পাঠান।
পুলিশি বয়ান অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ গোপী নাগরাজুর বুকের ওপর চেপে বসেন এবং মাধুরী বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ঘটনাস্থলেই নাগরাজুর মৃত্যু হয়। এরপর গোপী বাড়ি থেকে চলে গেলেও মাধুরী সারারাত লাশের পাশেই বসে থাকেন। অভিযোগ, সেই বিভীষিকাময় রাতে মৃতদেহের পাশে বসেই মোবাইলে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও দেখেন তিনি।
ভোর ৪টে নাগাদ মাধুরী নিজেই প্রতিবেশীদের জানান যে, তাঁর স্বামীর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাঁর কথা বিশ্বাস করেননি প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাম্পত্য কলহ এবং মাধুরীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ায় অনেকের মনেই সন্দেহ জাগে। নাগরাজুর বন্ধুরা তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে খবর দেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, শ্বাসরোধ করেই নাগরাজুকে মারা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এমনকী তাঁর বুকের হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। পুলিশের জেরার মুখে মাধুরী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং খুনের পর 'নীল ছবি' দেখার কথাও স্বীকার করেছেন। পুলিশ এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
