আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় গতকালই একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ১৫ জন। আরও ৯ জন গুরুতর আহত। একটি আবাসনের কোচিং সেন্টারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে অনুমান করা হলেও, পুলিশি তদন্তে আবাসনের একাধিক বেআইনি এবং প্রশাসনিক গাফিলতি সামনে এসেছে। অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই বিষয়গুলি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, ঊষা মেহতা মার্গের এই তিন তলা আবাসনে ২০১৪ সালে 'সেলফ-সার্টিফিকেশন স্কিম'-এর অধীনে শুধুমাত্র বসবাসের জন্য অনুমোদন পায়।কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেখানে রমরমিয়ে চলছিল একাধিক বাণিজ্যিক ব্যবসা। আবাসনে একটি পোষ্যদের দোকান, পশু চিকিৎসালয়, গেমিং জোন, অ্যানিমেশন সেন্টার এবং একটি কর্পোরেট অফিসও ছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের মে মাসে লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই আবাসনের অবৈধ নির্মাণের অংশটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মাত্র দু’মাসের মধ্যে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আবাসনটিও একই ভাবে চলতে দেওয়া হয়। গতকালের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আবারও ভবনটি ভাঙার নোটিশ জারি করে। কোন কর্মকর্তাদের মদতে এটি এতদিন চলছিল, তা নিয়ে শুরু হয়।
পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, পুরো আবাসনে ঢোকা এবং বেরনোর জন্য মাত্র একটিই পথ ছিল। কোনও ইমার্জেন্সি সিঁড়ি, দ্বিতীয় কোনও এক্সিট বা আপৎকালীন সময়ে পালানোর বিকল্প রাস্তাই রাখা হয়নি।আগুন লাগার পর দ্রুত বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে থাকা মানুষজন আটকা পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ওপর থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকারী দল শেষ পর্যন্ত পাশের বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এর পর ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানো সত্ত্বেও মালিকপক্ষ ন্যূনতম কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থাও রাখেনি।
দমকল আধিকারিকেরা জানান, বহুতলটি ১৫ মিটারের কম উচ্চতার হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এটির জন্য কোনও অগ্নি-নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজন ছিল না। আর এই আইনি ফাঁকের সুযোগ নিয়েই বছরের পর বছর কোনও রকম আপত্তি ছাড়াই ভবনটি চলছিল।
উত্তরপ্রদেশের নগরোন্নয়ন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এসি থেকে এই আগুন লেগেছে। বিল্ডিংয়ের ভেতর ধোঁয়া বেরোনোর কোনও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় দমবন্ধ হয়েই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভেতরের বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ এবং এসির আউটডোর ইউনিটগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বসানো ছিল।
ঘটনায় লখনউ পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুন, অবহেলা ও মানুষের জীবন বিপন্ন করার ধারা এবং উত্তরপ্রদেশ দমকল আইনের অধীনে মামলা রুজু করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন—বীরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা, রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়, তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়াল, সুরেশ কুমার সাহু।
ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার দুই সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। সিট-কে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।















