আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুরক্ষিত বিশাল ক্যাম্পাস। সেখানেই অকস্মাৎ দেখা বাঘমামার। তারপরই আক্রমণ পথ কুকুরের উপর। আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে এমনই শিউরে ওঠা দৃশ্য ধরা পড়ল সিসিটিভি ক্যামেরায়। শুক্রবারের ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে মুহূর্তে সাড়া ফেলে দেয়। ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্যাম্পাস চত্বরে সতর্কতা ও কড়া নজরদারি এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পাওয়াই এলাকায় অবস্থিত এই বিশাল ক্যাম্পাসটি সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় উদ্যানের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। ফলে এখানে অতীতেও চিতাবাঘের আনাগোনা দেখা গিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে তেমনই এক পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে। রাত আড়াইটে নাগাদ স্টাফ হোস্টেল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারপাশের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে আচমকাই চিতাবাঘটি বিদ্যুৎগতিতে এসে একটি ঘুমন্ত পথকুকুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শিকারটিকে মুখে চেপে ধরে টেনে নিয়ে যায় কাছের ঝোপঝাড়ের মধ্যে। আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কুকুরটি পালানোর কোনও সুযোগই পায়নি। জানা গিয়েছে, চিতাবাঘটির কামড়ে কুকুরটির মৃত্যু হয়েছে।

 

ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আইআইটি চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্বস্তির খবর, কোনও পড়ুয়া, অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মী এই ঘটনায় জখম হননি। চিতাবাঘটি কেবল কুকুরটিকে লক্ষ্য করেই এসেছিল। শিকার ধরার পরেই ফের জঙ্গলে ফিরে যায়।

 

ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকা এবং স্টাফ কোয়ার্টারগুলোর আশেপাশে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পড়ুয়া ও বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:

 

১। গভীর রাতে বা ভোরে একা একা বাইরে বেরনো নিষেধ।

২। ক্যাম্পাসের ভিতর চলাফেরার সময় অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া জরুরি।

৩। ফের কোনও বন্যপ্রাণী নজরে এলে তা অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

 

বনদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের যেসব এলাকা বনাঞ্চলের কাছাকাছি, সেখানে চিতাবাঘের দেখা পাওয়া নতুন বিষয় নয়। মাঝে মধ্যেই খাবারের সন্ধানে এরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। পথকুকুররা এদের অন্যতম প্রধান শিকার। একদিকে যেমন আবাসিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তেমনি, অন্যদিকে চিতাবাঘ একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হওয়ায় তার যাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।